বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত এক জনযুদ্ধ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন অনিবার্য চরিত্র, যার অবদানকে অতীতে নানা সময় খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে এমন কোনো কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত শহীদ জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধ থেকে স্বাধীনতার প্রতি তাঁর মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সহ দলটির শীর্ষ নেতারা।
তিনি বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে সরকার পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।









