পশ্চিম এশিয়া জুড়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটির ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন বাহিনী কোনো অনিয়মিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর পরিবর্তে একটি পূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে, যার পরিণতি হচ্ছে অত্যন্ত মারাত্মক। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে থাকা অত্যন্ত মূল্যবান ‘ই-থ্রি সেন্টিরি অ্যাওয়াক্স’ রাডার বিমানসহ অসংখ্য উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিশেষ করে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে বারবার আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন বাহিনী এই গণ-ড্রোন হামলার সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সরবরাহ করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস ছাড়াও কাতারের উম্ম দাহাল এলাকায় অবস্থিত ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি রাডার ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইরানের একটি রাজনৈতিক-নিরাপত্তা সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে, তেহরান পর্যায়ক্রমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তাদের কৌশলগত লক্ষ্য হলো শত্রুর রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া এবং এই অভিযান লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তেহরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের হাতে থাকা বিশাল ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার যেকোনো সময় শত্রুপক্ষকে অবাক করে দিতে প্রস্তুত।
সূত্র: আল মায়াদিন









