যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই আসর ভক্ত, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও আয়োজক দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ।
আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত ‘মানবতার জয় আবশ্যক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকার তিন দেশে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়নের মঞ্চে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে ভক্ত, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, শ্রমিক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন মানবাধিকার ঝুঁকির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থাটি ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে টুর্নামেন্ট চলাকালে সকল অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালার প্রেক্ষাপটে দেশটি ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ মুখোমুখি। আগ্রাসী নির্বাসন নীতি, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর আধাসামরিক ধাঁচের অভিযানকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এই আয়োজন সফল হতে পারে না। তিনি আরও জানান, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে মাত্র চারটি এখন পর্যন্ত মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা এই আসরের প্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি









