মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে পৃথক দু’টি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ও ভোরে এ ঘটনাগুলো ঘটে।
কুলাউড়া সীমান্তে নিহত ১
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তের দশটেঁকি এলাকায় দুপুরে গুলিতে নিহত হন সুকিরাম (২৫)। তিনি মুরইছড়া বস্তির দাসনু উরাংয়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সুকিরাম ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সীমান্তের ১ হাজার ৮৪৪ ও ১ হাজার ৮৪৫ নম্বর খুঁটি এলাকায় গরু চড়াচ্ছিলেন। এ সময় গরু আনতে গিয়ে সুকিরাম ভারতের ১৯৯ হিরাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিএসএফ। পিঠে গুলি লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন ফারহানা জেরিন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে গুলিবিদ্ধ চিহ্ন রয়েছে।”
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করায় বিএসএফের গুলিতে সুকিরামের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পাটগ্রাম সীমান্তে আরেক বাংলাদেশি নিহত
একইদিন ভোরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন সবুজ (২৫)। তিনি জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার এলাকার শেরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সবুজসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের দিকে প্রবেশ করলে ১৬৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই সবুজ মারা গেলে তার মরদেহ বিএসএফ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।









