হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ৯৫তম, যা দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম। এই পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বজুড়ে মাত্র ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টের ভিসা সুবিধা ২২৭টি গন্তব্যের সাথে তুলনা করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।
সাধারণত বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীরা ইউরোপের ৩০ দেশের শেনজেনভুক্ত অঞ্চলে (যেমন : ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ইত্যাদি) ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে এদেশের নাগরিকেরা অতি সীমিত সুযোগ নিয়েই ইউরোপজুড়ে ঘুরে বেড়ান। সামগ্রিকভাবে এই সীমাবদ্ধতার কারণে এই দেশ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক প্রতিবেশী দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে।
ভ্রমণ সুবিধার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটির পাসপোর্ট বৈশ্বিকভাবে ৫২তম অবস্থানে, যা দিয়ে ৫৫টি দেশে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যায়। ভারত রয়েছে বৈশ্বিক তালিকার ৮০তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় অবস্থানে। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ৫৫টি গন্তব্যে ফ্রি-ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ পান। অন্যদিকে, ভুটান বৈশ্বিকভাবে ৮৫তম ও আঞ্চলিকভাবে তৃতীয়। তাদের ফ্রি-ভিসা গন্তব্যের সংখ্যা ৫০টি।
শ্রীলঙ্কা বৈশ্বিকভাবে ৯৩তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ। দেশটির নাগরিকেরা ভিসা ছাড়াই ৩৯টি দেশে যেতে পারেন। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। নেপাল রয়েছে বৈশ্বিকভাবে ৯৬তম ও আঞ্চলিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে। দেশটির ফ্রি-ভিসা গন্তব্য ৩৫টি।
এছাড়া পাকিস্তান ৯৮তম অবস্থানে থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সপ্তম। পাকিস্তানের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া ৩১টি দেশে যাওয়া যায়। আফগানিস্তান এই অঞ্চলে সবচেয়ে পিছিয়ে। বৈশ্বিকভাবে ১০১তম ও আঞ্চলিকভাবে অষ্টম। মাত্র ২৪টি গন্তব্যে ফ্রি-ভিসা সুবিধা রয়েছে আফগানদের।
গত দুই দশকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬৮তম। ২০০৯ সালে তা পিছিয়ে আসে ৭৩-এ। ২০১০ সালে হঠাৎ করে অবস্থান পড়ে যায় ৮৫তে। এরপর ২০১২ সালে পিছিয়ে আসে ৯৩তে। ২০১৫ সালে র্যাংকিং আরও পিছিয়ে ৯৯তে পৌঁছায়। ২০১৭ সালে কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্ন (১০৮তম) ছিল।
পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যায়। ২০২২ সালে ১০৩তম, ২০২৩ সালে ১০১তম এবং ২০২৪ সালে ৯৭তম স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। গত বছর এই অবস্থান আবার ১০০তে চলে গেলেও চলতি বছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান।
গতবছরের আইএটিএর বার্ষিক পর্যালোচনা রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রায় ২০ হাজার ৮২৮ কোটি টাকার (প্রায় ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার) তহবিল আটকে ছিল। এই তালিকায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
বোঝা যাচ্ছে, এ ধরনের আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এদেশের এভিয়েশন খাতে ও বৈশ্বিক সংযোগে আরও জটিলতা বেড়েছে। এজন্যই বিশ্বের অনেক দেশে যেতে বাংলাদেশিদের এখনো ভিসার দরকার পড়ে।
একটি দেশের নাগরিকদের যতগুলো দেশে ফ্রি-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা, ভিজিটর পারমিট কিংবা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরিটি (ইটিএ) সুবিধা থাকে সেই দেশকে হেনলি পাসপোর্ট সূচকে স্কোর দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো দেশের নাগরিকদের একটি দেশে এই সুবিধা থাকলে সেই সুবিধাপ্রাপ্ত দেশকে ১ স্কোর দেওয়া হয়।
আর সকল দেশে যেতে ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক হলে স্কোর ধরা হয় শূন্য। এই স্কোরের ভিত্তিতেই একটি পাসপোর্টের ফ্রি-ভিসা গন্তব্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র: হেনলি পাসপোর্ট সূচক, আইএটিএ বার্ষিক পর্যালোচনা রিপোর্ট ২০২৫









