বরিশাল ও ফরিদপুরে বিশাল জনসভায় তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ তাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা গুপ্ত? গতকাল দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এলাকাবাসীর মতে, জনসমাগমের দিক থেকে বরিশালের ইতিহাসে এটি ছিল সর্বকালের সর্ববৃহ জনসভা।
পরে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুরের (সাংগঠনিক বিভাগীয়) নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান পরিষ্কার ভাষায় বলেন, জনগণের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আর যারা এ ষড়যন্ত্র করছে, মানুষ তাদের গুপ্ত বলে ডাকে। এই গুপ্ত দল যখন যেখানে যে রূপ দেখাতে হয়, তারা সে রূপ দেখায়। সেই গুপ্ত দলের কাছ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। সেখান থেকে গাড়িতে বেলস পার্কের সভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তারেক রহমান জনসভার মঞ্চে পৌঁছেন। বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বেগম সেলিমা রহমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, জহির উদ্দিন স্বপন, নূরুল ইসলাম মণি, বিজেপি সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর প্রমুখ। এ সমাবেশে বিএনপি মনোনীত দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনের প্রার্থীদের উপস্থিত জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তাঁদের সবাইকে পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, এ মানুষগুলোকে আমি ধানের শীষ দিয়ে আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের দেখে রাখবেন আপনারা, ১৩ তারিখ থেকে ইনশাল্লাহ তাঁরা আপনাদের দেখে রাখবেন। তারা আপনাদের পায়ের কাছে পড়ে থাকবেন, তারা আপনাদের এলাকায় পড়ে থাকবেন এলাকার উন্নয়নের জন্য।
বেলা ৩টায় ফরিদপুরের রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির এ শীর্ষনেতা। তারেক রহমান বলেন, গুপ্ত দলের নেতা এ দেশের খেটে খাওয়া নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক। কাজেই এই গুপ্ত নেতার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল। এ কারণে এ গুপ্ত দলের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের উন্নয়ন চাইলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখেন, ১২ তারিখের পর বিএনপি আপনাদের দেখে রাখবে ইনশাল্লাহ।
বরিশালে টানা ৩০ মিনিটের বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে মানুষের ভোটের ও কথা বলার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকারকে জনগণের জন্য লড়াই করে আনতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। গত ১৫ বছর আমরা দেখেছি, জনগণের ভোট নিয়ে কীভাবে নিশিরাতের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই আমি-ডামির নির্বাচনের মালিক, নিশিরাতের ভোটের মালিক, যারা জনগণের প্রতিরোধের মুখে এ বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন এই বাংলাদেশ হচ্ছে জনগণের বাংলাদেশ। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এখন বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। এ জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। যারা জনগণের ইচ্ছামতো জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মাধ্যমে আগামী দিন দেশ পরিচালনা করবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা আশা করেছিলাম, ৫ আগস্টের পূর্বের সেই যে স্বৈরাচার, তারা যে ভাষায় কথা বলত জনগণকে, বাংলাদেশের সম্মানি-গুণী-মানী ব্যক্তিদের যেভাবে অপদস্ত করত, যেভাবে মানুষকে তারা ছোট করত, ৫ আগস্টে তাদের পালিয়ে যাওয়ার পর এই রীতি নিশ্চয়ই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আমরা খেয়াল করলাম যে- এই রীতি বন্ধ হয় নাই। একটি রাজনৈতিক দল, যাদের একটি অন্য পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের কী পরিচয়ে চেনে? গুপ্ত পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে।’
জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন- আপনারা চেনেন কারা তারা? বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত? চেনেন আপনারা? এ সময় জনসভা থেকে সমস্বরে আওয়াজ ওঠে- ‘জামায়াত, জামায়াত’। তখন তারেক রহমান বলেন, এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। আজ আমরা অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে দেখছি, অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই যে নতুন জালেম, যাদের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে, এই জালেমদের নেতা, দুই দিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদের জন্য একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন।
দেশের মা-বোনদের প্রতি যে ব্যক্তি বা যে দলের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশ কখনো অগ্রগতি আশা করতে পারে না। মানুষ কোনো মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।
মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাও যে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, তিনি যে ব্যবসা করতেন, সে কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এরা নাকি ইসলামের রাজনীতি করে, অথচ শ্রেষ্ঠ নবীর স্ত্রী নিজে যেখানে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কেমন করে সেই রাজনৈতিক দলটি তাব বাংলাদেশের নারীসমাজকে এমন একটি কলঙ্কিত শব্দে জর্জরিত করল!
জামায়াতের নায়েবে আমিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই যে গুপ্ত সংগঠনটির আরেকটি ঘটনা বলি। তাদের আরেক নেতা যার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। সেই নেতা কিছুদিন আগে তাদের এক দলীয় সমাবেশে তাদের কর্মীদের বলেছেন যে, ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন, তার পর পরবর্তী পাঁচ বছর জনগণ আপনাদের পা ধরবে। তারেক রহমান বলেন, এই কথা থেকে প্রমাণিত হয় কী তাদের মেন্টালিটি, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে তারা জনগণকে নিয়ে এরকম তুচ্ছতাচ্ছিল্য কথা বলতে পারে। তিনি বলেন, এসব লোক যদি নির্বাচিত হয়, যদি দায়িত্ব পায়, তাহলে আজকেই আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, জনগণের ভাগ্যের কী দুর্বিষহ অবস্থা হবে।
বরিশালের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এসব গুপ্তদের বিরুদ্ধে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যারা দেশের মানুষকে সম্মান করতে জানে না, যারা পরিকল্পনা করে রাখে যে- ১২ তারিখের পর থেকে তারা জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে, তাদের উচিত শিক্ষা আপনাদের দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশ যদি গড়তে হয় প্রতিটি নারী-পুরুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে আজকে। তা না হলে এ দেশকে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব না। সেজন্যই আমরা নারীদের, বিশেষ করে গ্রামের ও শহরের খেটে খাওয়া নারী, কর্মজীবী নারী যারা, তারাসহ সব গৃহিণীর কাছে, সব পরিবারের মায়েদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে আমরা এই নারীদের ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি। যেন তারা পুরুষের পাশাপাশি পরিবারে, সমাজে, দেশে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯৩ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর ছেলে তারেক রহমান বলেন, আমরা এই এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করেছি। কিন্তু আরও বহু কাজ করা বাকি।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে বরিশাল-ভোলা ব্রিজ নির্মাণ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ করা, নদীভাঙন সমস্যার সমাধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কৃষকদের জন্য হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড চালু, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে শিল্প গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এসব সমস্যার সমাধান বিএনপি তখনই করতে পারবে যখন আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করবেন।
তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিউজে আমরা কিছু খবর দেখতে পাচ্ছি। ওই যে যারা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যাদের বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে, আমরা দেখেছি কীভাবে তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল তৈরি করছে, আমরা বিভিন্নভাবে শুনতে পাচ্ছি যে তাদের পরিচিত যেসব প্রেস আছে, সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, আমরা এর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি, বিশেষ করে নিরীহ মা-বোন যারা আছেন, তাদের কাছে গিয়ে তারা এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, তাদের কাছে গিয়ে তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই গুপ্তের দল, এই জালেমের দল বলে, তারা নাকি স মানুষের শাসন কায়েম করবে। আরে ভাই, নির্বাচনের আগেই তো শুনলাম, আপনারা জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছেন, নির্বাচনের আগেই তো দেখলাম আপনাদের লোকজন এনআইডি নম্বর নিয়ে যাচ্ছেন মা-বোনদের কাছ থেকে, বিকাশ নম্বর নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রথমেই তো আপনারা অনৈতিক কাজ শুরু করছেন। অনৈতিক কাজ দিয়ে আপনারা মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। যাদের ভোটের শুরুটাই অনৈতিক কাজ দিয়ে, তারা কী করে স মানুষের শাসন দিতে পারে?
তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের অপমান করার পর তারা অস্বীকার করে বলছেন যে- তারা এটা করে নাই। তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, আইডি হ্যাক হয় নাই। যখন তারা ধরা পড়ে গেছে, বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা তারা বলা শুরু করেছে। যারা একটি অপরাধকে ঢাকার জন্য মিথ্যা কথা বলে, আর যাই হোক তারা স মানুষের শাসন দিতে পারে না।
কাজেই এদের এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। আজ এই মাঠে লক্ষ মানুষ যারা আছেন- আপনারা স্ব স্ব এলাকায় ফিরে গিয়ে আপনার এলাকার যেসব ভাই-বোন আছেন, যারা ভোটার আছেন- তাদের সবাইকে সজাগ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলবেন। যাতে করে ১২ তারিখে আপনার অধিকার অন্য কেউ হাইজ্যাক করে নিয়ে যেতে না পারে।
ফরিদপুরের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনি জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই-ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যার সমাধান হয় তাহলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। আমরা শুনেছি, প্রত্যেক এলাকায় এত উন্নয়ন হয়েছে তাহলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বললেন কেন? বিএনপির সব ক্ষমতার উ স জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখ দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিলে আমরা কী কী করব তার পরিকল্পনা করেছি। এ এলাকার অন্যতম একটি সমস্যা নদী ভাঙন। কৃষিপ্রধান এ এলাকায় নদী ভাঙন রোধ করতে পারলে এই গ্রেটার ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাট বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যাবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষককে কৃষি কার্ড দেব। তার মাধ্যমে ফসল ফলাতে বীজ-সার পৌঁছে দিতে চাই। এ এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এজন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এর মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারগুলো প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে সহায়তা পাবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বৈরাচারমুক্ত করতে জুলাই যোদ্ধারা অনেক কিছু হারিয়েছেন। আমরা সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছে।’ বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন। এরপর গাড়িতে করে ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মঞ্চে ওঠেন। ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। সমবেত বিশাল জনতার সামনে বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫ সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহসাংগঠনিক মো. সেলিমুজ্জামান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খানসহ ১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা।
সমাবেশ কেন্দ্র করে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন্ স্থান থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত হন রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে। দুপুরেই গোটা জনসভাস্থল লোকারণ্য হয়ে পড়ে। স্মরণকালের বিশাল এ জনসভায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।









