দেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও লেনদেনে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় গতকাল ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে।
ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেনেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯১টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৩০৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ২৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৫টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৭১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৭৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ফান্ড ও কোম্পানির দর দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ৬৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল চারটি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।
‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৭টি কোম্পানি ও ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৭২টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৯টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৫টি ফান্ডের মধ্যে একটি ফান্ডের ইউনিট চারটির দর বেড়েছে, বিপরীতে ২৩টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল আটটি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯টি শেয়ার ও ইউনিট এক লাখ ৭৫ হাজার ৭৩১ বার হাতবদল হয়েছে। এরই জেরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮২টি ফান্ড ও কোম্পানির মধ্যে ৪৯টির দর বেড়েছে, ১১৯টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৭ লাখ টাকার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও তারল্য সংকটের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে বাজারে পতনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।









