হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি অভিযোগ করেছেন যে, শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পরও কারাগারে ঠিকমত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমি বলছি, আমি অসুস্থ। আমার ব্রেন পরীক্ষার প্রয়োজন। আমার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের কি মরিয়া প্রমাণ করতে হবে আমরা অসুস্থ।
সোমবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করার পর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনি। ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসানের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মী, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। আমাদের কি মরিয়া প্রমাণ করা লাগবে আমরা অসুস্থ ছিলাম?
তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আপনি জানেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুন মারা গেছেন। আমি জেনেছি, ওনাকে চারবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পরে তিনি ঢাকা মেডিকেলে মারা যান।
যদিও দীপু মনির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। উল্টো হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন রিমান্ড চান তিনি।
পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
শাহবাগ থানার জুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যা মামলায় দীপু মনিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল খান পুলক।
এছাড়া লালবাগ থানার শাওন সিকদার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই আবুল ফারেজ জুয়েল।
সোমবার আসামিদের উপস্থিতিতে ওই দুই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। তার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ প্রহরায় দীপু মনি ও সোলায়মান সেলিমকে আদালতে তোলা হয়।
প্রথমে দীপু মনির রিমান্ডের শুনানি শুরু হয়। তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, “আমার আসামি দীর্ঘদিন ধরে হাজতে রয়েছেন। তিনি নারী হওয়ায় বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। এই মামলার এজাহারে তার নাম ছাড়া কিছুই নেই। এ বিষয়ে আসামি কিছু বলতে চান।”
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দীপু মনি বলেন, গত মাসের ৯/১০ তারিখে আমি অসুস্থ হওয়ায় শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনুমতি নেয়া হয়। গতকাল হাসপাতাল নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ স্কোয়াড না থাকায় নেয়া হয়নি। ভাবছিলাম আজকে হাসপাতালে নেয়া হবে। কিন্তু দেখলাম আমাকে আদালতে আনা হয়েছে।
দীপু মনি বলেন, পুলিশ স্কোয়াডের কারণে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না, অথচ আদালত আনা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আমার যে চিকিৎসা দরকার সেটা পাচ্ছি না।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৬০টির অধিক মামলা। কিন্তু আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। গত এক বছরে আইনজীবীর সঙ্গে আমার তিনবার দেখা হয়েছে। আমাকে আদালতে নেয়ার দিনই যেন হাজতখানায় (আদালতের হাজতখানা) আমার সঙ্গে আইনজীবীর কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়। তাহলে মামলা সম্পর্কে একটু আলোচনা করতে পারি।
এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। তারা জেলগেইটে চাইলে সাক্ষাৎ করতে পারবে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক এমপি নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর খবর জানায় কারা অধিদপ্তর।সেখানে বলা হয়, নূরুল মজিদ মাহমুদ ‘আনকন্ট্রোলড বাওয়েল অ্যান্ড ব্লাডার’ সমস্যায় ভুগছিলেন।









