প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগে হামলা না হলে তাদের লক্ষ্য করে আর কোনো আক্রমণ চালাবে না ইরান।
শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এ নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি। খবর রয়টার্সের।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সংঘটিত হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে হচ্ছে বলে আমরা দুঃখিত। তবে তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।’
অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানি সরকারের অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফের তথ্যমতে, অভিযানে ইসরাইয়েলি বিমান বাহিনীর ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং প্রায় ২৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
ইসরায়েলের দাবি, হামলায় বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইমাম হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আইআরজিসি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
ইরানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তীব্র হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল তেহরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ মেনে নেবেন। একই সময়ে ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সাময়িকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের আশা জাগালেও পরে ট্রাম্পের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।









