✒️মাহবুব মমতাজী
মূল হোতারা বিদেশে থাকলেও ১৪ এলাকায় ভাগ করে চলছে কার্যক্রম
রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুরে অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে চারটি গ্রুপ। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এসব চক্র ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে পরিচিত। তাদের মূল হোতারা বিদেশে অবস্থান করলেও নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে মিরপুরকে ১৪টি এলাকায় ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, মিরপুরে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, দখল ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন মফিজুর রহমান মামুন, ‘কিলার’ ইব্রাহীম, শাহাদাত হোসেন এবং মহসিন-মোক্তার দুই ভাই। মামুন বর্তমানে মালয়েশিয়ায়, ইব্রাহীম ফ্রান্সে, শাহাদাত ইতালিতে এবং মহসিন-মোক্তার ভারত হয়ে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
মামুনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মিরপুর-১২, পল্লবী, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকা। ইব্রাহীমের নিয়ন্ত্রণ মিরপুর-১৩, ১৪, ভাসানটেক ও কালশী। শাহাদাতের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর-১, ২, ৬ ও ৭ নম্বর সেকশন। আর মহসিন-মোক্তার নিয়ন্ত্রণ করেন মিরপুর-১০ ও ১১ এলাকা।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ১৭ নভেম্বর মিরপুর-১২ নম্বরের সি ব্লকের একটি দোকানে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে (৪৭) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামুনের অনুসারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় মাদক কারবার, পরিবহন ও আবাসন খাতে চাঁদাবাজিতে সক্রিয় রয়েছে তার বাহিনী।
গত বছরের জানুয়ারিতে পল্লবীর আলব্দিরটেকে এ কে বিল্ডার্সের কার্যালয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা হয়। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কাইউম আলী খান জানান, ‘জামিল’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে মামুনের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেছিলেন। এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহ আলীর স্বাধীন মার্কেটে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে আসিফ সিকদারের নেতৃত্বে ভাঙচুর চালায় শাহাদাত বাহিনী। এ ঘটনায় মার্কেটের ম্যানেজার তরিকুল মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর আসিফ পুলিশকে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শাহাদাতের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।
এ ছাড়া মিরপুর-১০ নম্বরের বেনারসি পল্লির ব্যবসায়ী সোহেল রানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো কোন গ্রুপে কারা রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে পরে বলা যাবে।’ পল্লবী থানার তথ্যমতে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি হিসেবে পুলিশের তালিকায় রয়েছেন মামুন। তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজি, খুন, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে অন্তত ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং দুটিতে সাজা পরোয়ানা রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে মামুনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগিতা করেন তার বিদেশ পলাতক ছোট ভাই মশিউর রহমান। আর পুরো বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন বড় ভাই জামিলুর রহমান। তাদের দলে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন রুবেল, রফিকুল, নাটা আলমগীর, কালা মোতালেব, রাজন, সানি, ভাগ্নে মামুন, সোহেল, কায়েস, সেলিম, প্রকাশ, সুজন, হাবিব, সাগর, রোকন, শামিম ও ল্যাংড়া রুবেলসহ অনেকে। সরেজমিন দেখা যায়, মিরপুর-১৩ নম্বরে পুলিশ স্টাফ কলেজের পেছনে শেরেবাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের মাঝের সড়কে প্রতিদিন ভোর থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি মাছের দোকান বসে। এ ছাড়া পুলিশ কনভেনশন সেন্টারের পাশে আরও প্রায় ১০০টি ফল ও সবজির দোকান বসে। ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান বসাতে প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। মিরপুর ও কাফরুল থানা পুলিশ জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেন একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের সহযোগী ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি বর্তমানে ইতালিতে পলাতক। তার নির্দেশে এলাকায় সক্রিয়দের মধ্যে রয়েছেন টিপু সুমন, ফিটিং শিশির, বিহারী নীলা, প্রচার সাইফুল, পিচ্চি আলামিন ও শামিম। অন্যদিকে ভাসানটেক এলাকায় ইব্রাহীমের হয়ে কাজ করেন যুবরাজ, সাবু, শাকিল, ভাগ্নে সোহেল, জনি, কালা ইব্রাহীম, বডিগার্ড সামসু ও পাতা সোহেল। সূত্র জানায়, মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরে মহসিন ও মোক্তারের হয়ে কাজ করেন হাড্ডি সোহাগ, নওশাদ, সোহাগ, আশিক, ঢাসা শরীফ, এলেক্স জুয়েল, শুটার জাকির, তপু, আমিন, রকি, ছোট রাকিব, শাহপরান ও মিঠু।
সুত্রঃবিডি-প্রতিদিন









