সরবরাহ বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাসে বিশ্ববাজারে কমে এসেছে আকরিক লোহার দাম| tএকই সঙ্গে ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল কোকিং কয়লা ও কোকের দামেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) চীনের দালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া মে মাসের আকরিক লোহার ফিউচার শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৭৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ ইউয়ানে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে মানদণ্ড জানুয়ারি চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১০৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ ডলারে নেমে নেমেছে।
স্টিলহোমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চীনের বিভিন্ন বন্দরে আকরিক লোহার মোট মজুত আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ মিলিয়ন টন।
অন্যদিকে চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোতে কার্বন স্টিলের মজুত কমেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মিস্টিল জানায়, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি প্রধান কার্বন স্টিল পণ্যের মজুত নেমে এসেছে ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে, যা চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের পর সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের খনিগুলো থেকে উৎপাদন বাড়লেও চীনে ইস্পাতের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পেছনে দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি খাতের মন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন
তারা।
একসময় ইস্পাতের সবচেয়ে বড় ভোক্তা ছিল চীনের সম্পত্তি খাত। তবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এ খাত টানা সংকটে রয়েছে। এ সময়ে বাড়ির দাম কমেছে এবং বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ইস্পাতের দাম স্থিতিশীল রাখতে চীন সরকার ১২ ডিসেম্বর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে একটি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়। তবে জাপান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান তাদাশি ইমাই বলেছেন, এই ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকর সমাধান আনবে না।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত রপ্তানিকারক দেশ জাপান অভিযোগ করেছে, চীনা ইস্পাত কোম্পানিগুলো সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছে। এতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও কম দামে রপ্তানি বাড়ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দালিয়ান এক্সচেঞ্জে অন্যান্য কাঁচামালের দামও কমেছে। কোকিং কয়লার দাম কমেছে ৪ দশমিক শূন্য চার শতাংশ এবং কোকের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
মিস্টিলের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর নিলামে তোলা কোকিং কয়লার প্রায় ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ চালান ক্রেতা পায়নি, যা চাহিদা কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ ইস্পাত পণ্যের দাম কমেছে। রিবার ১ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, হট-রোল্ড কয়েল শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং স্টেইনলেস স্টিল শূন্য দশমিব ১২ শতাংশ কমেছে। তবে ওয়্যার রডের দাম বেড়েছে ২.৫৭ শতাংশ।









