বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে কাতার আমিরের বহরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আর ঢাকায় আসছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর পরিবর্তে জার্মানির নুরেমবার্গভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে কাতার সরকার। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসমৃদ্ধ এবং সংকটাপন্ন রোগী পরিবহনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
২০১৮ সালে নির্মিত বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার সিএল-৬০ সিরিজের দুই ইঞ্জিনের এই জেটে অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেমের সব আধুনিক সুবিধা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি নুরেমবার্গ থেকে ঢাকায় আসবে এবং পথে জ্বালানি নিতে বিরতি দেবে।
এফএআই এভিয়েশন জানায়, তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভেন্টিলেটর, মনিটরিং ইউনিট, ইনফিউশন পাম্প, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ও জরুরি ওষুধপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজিত। বিমানে থাকবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস—যারা আকাশপথে সংকটাপন্ন রোগী পরিবহনে অভিজ্ঞ।
উড়োজাহাজটিতে রয়েছে ‘এক্সট্রা করপোরাল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (ইসিএমও) সাপোর্ট—যা হৃদযন্ত্র বা ফুসফুস বিকল হওয়া রোগীকে কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়। কোম্পানির দাবি, তাদের দল ইসিএমও রোগী পরিবহন ও স্থানান্তরে বিশেষ দক্ষ।
হাসপাতাল থেকে বিমানে সংকটাপন্ন রোগী স্থানান্তর অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ আইসিইউ নার্স ও পারফিউশনিস্ট যুক্ত করে নিরাপদ ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। কম প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগীদের জন্য রয়েছে পোর্টেবল মেডিকেল আইসোলেশন ইউনিট (পিএমআইইউ), যার উন্নত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় রোগীর কাছে পৌঁছানোর আগেই বাতাস পরিশোধিত হয়। নবজাতক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী রোগীর জন্য পৃথক সেটআপও রয়েছে।
এর আগে কাতার আমিরের বহরের যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় এসেছিল, সেটি এয়ারবাস এ-৩১৯ সিরিজের বড় আকারের উড়োজাহাজ ছিল। সেই তুলনায় নতুন বোম্বার্ডিয়ার জেটটি আকারে ছোট হওয়ায় এবার আগের সংখ্যার অর্ধেক যাত্রীও এ অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে বলে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।









