ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যাকাণ্ডের ‘প্রাইম শুটার’ জিনাত এবং সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল। তৃতীয় ব্যক্তি তাদের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। আহত মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের বরাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার প্রায় ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রধান দুই সন্দেহভাজন। গলির মুখে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া এক সহযোগীর কাছে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করে তারা গলির ভেতরের অন্ধকার স্থানে ওত পেতে থাকেন। হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর মোটরসাইকেল নিয়ে ওই সহযোগী ফার্মগেটের দিকে চলে যান।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তাদের মধ্যে দুজনকে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। আরেকজন গলির ভেতরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাটি করছিল, যাতে প্রথমে তাকে সন্দেহ করা হয়নি। পরে অন্য একটি ফুটেজে তাকে অপর তিনজনের সঙ্গে পরামর্শ করতে দেখা যায়। অপর একজন গলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিল।
হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, নতুন পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে চার সন্দেহভাজনের চেহারা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। এসব ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। আধিপত্য বিস্তারসহ সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং এর পেছনে থাকা আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যার আগে হুমকিতে ছিলেন তার স্বামী। মুছাব্বির বিভিন্ন সময় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, যেকোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি।









