রাশিয়ার নতুন করে চালানো হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
গত রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশজুড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কো প্রায় প্রতি রাতেই কয়েক শত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। জবাবে কিয়েভও নিয়মিত রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালাচ্ছে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনের রাতের হামলায় রাশিয়ায় দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে ৩২ ঘণ্টার অর্থডক্স ইস্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হয়। এ সময়ে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহিয়ি লিসাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ওদেসায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাত জন নিহত হন।
রাজধানী কিয়েভে হামলায় অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণে ভবন ও গাড়িতে আগুন লাগে। জানালার কাচ ভেঙে যায়। হোটেলের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়েভের পোডিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে উদ্ধার কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করে।
ক্লিচকো বলেন, একটি ড্রোন ‘সরাসরি ১৮তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আঘাত হানে।’
আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা জানান, মধ্যাঞ্চলের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আরও তিন জন নিহত হয়েছেন।
গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বৃহস্পতিবার জানান, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তুয়াপসে আবাসিক ভবনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় পাঁচ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোর নিহত হয়েছে।’
রাতের হামলার পর কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বাসিন্দাদের সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়স্থলে থাকতে বলেন।
মেয়র ক্লিচকো জানান, কিয়েভে এই হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা কর্মীও রয়েছেন।
আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ড্রোন হামলায় ৭৭ বছর বয়সী এক নারী ও ৬৬ বছর বয়সী এক পুরুষ আহত হয়েছেন।









