ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নির্দেশনা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করবেন।
তিনি বলেন, আমি যা চাই, তিনি তাই করবেন। তিনি খুব ভালো মানুষ এবং একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী।
এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন এর আগের দিনই দুই নেতার মধ্যে হওয়া ফোনালাপ ঘিরে উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়। ওই ফোনালাপে ইরান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু বরাবরই ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কৃতিত্বও তিনি ট্রাম্পকে দিয়ে থাকেন। তবে এই ঘনিষ্ঠতাই তাকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তিনি।
গত মার্চে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হবে যৌথভাবে। কিন্তু পরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে জেরুজালেম প্রশাসন আগেভাগে তা জানত না বলে জানা যায়।
এদিকে নতুন এক মধ্যস্থতা উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। কাতার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসরসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশ একটি অভিপ্রায়পত্রে সই করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং পরবর্তী ৩০ দিনের আলোচনার পথ খুলবে।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে নেতানিয়াহু সন্দিহান বলে জানা গেছে। তার মতে, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এমনকি একটি সূত্র জানিয়েছে, ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ তীব্র।
যদিও এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীরা এখনো প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা









