দীর্ঘ বিরতির পর ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ফিরছেন অভিনেতা ইমরান খান। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন ভূমি পেডনেকর ও গুরফতেহ পিরজ়াদা। তবে কামব্যাকের পথে প্রচলিত বলিউড রীতির বাইরে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমরান। পিআর কিংবা ম্যানেজার—কাউকেই সঙ্গে রাখছেন না তিনি।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ইমরান বলেন, অতীতে পিআর ও ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তবে এবার তিনি নিজের মতো করে কাজ করতে চান। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই ম্যানেজাররা পারিশ্রমিকের একটি অংশ নেওয়ার বিনিময়ে এমন কাজের দিকে ঠেলে দেন, যা অভিনেতা আদৌ করতে চান না। আবার পিআর টিমের তৈরি করা এনগেজমেন্ট ও স্ট্র্যাটেজির পেছনে সারা দিন সময় দিতে হয়, যা তিনি আর চান না।
ইমরানের ভাষায়, “এখন সব কিছুই পিআর স্টান্ট হয়ে গেছে। দর্শকরাও আর সহজে অবাক হন না। আমি চাই না, কেউ আমার জন্য কাজ খুঁজে আনুক। নিজের ছন্দে, নিজের মতো করে কাজ করতে চাই।”
ছবি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইমরান জানান, ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’ মূলত একটি ক্যারেক্টার-নির্ভর গল্প। জীবনের বর্তমান পর্যায়ের সঙ্গে এই গল্পের মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। “আমি এখন ৪০ বছরের একজন বিবাহবিচ্ছিন্ন মানুষ, আমার সন্তান রয়েছে। ছবির চরিত্রেও এমন অনেক দিক আছে, যা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আকৃষ্ট করেছে,”—বলেন তিনি।
এর আগে সম্প্রতি ইমরান খান বিতর্কে জড়ান পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজকে নিয়ে করা এক মন্তব্যে। তিনি দাবি করেন, ‘মাটরু কি বিজলি কা মান্ডোলা’ ছবিতে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল মূলত বাজেট বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, এবং পরিচালক নিজেও ছবিটি নিয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন না। এই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে ইমরান স্পষ্ট করেন, সত্য কথা বলার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন।
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “আমি এমন কিছু বলি না, যেটা পরে গিয়ে অস্বীকার করতে হবে। সত্যি কথা বললে কেউ কী ভাববে—এই ভয়ে চুপ থাকার মানে দেখি না। এখন সবাই গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট মেনে চলে। আমি কাউকে আঘাত করতে চাইনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলেছি।”
ইমরান আরও বলেন, বয়সের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে। “২৫ বছর বয়সে অনেক কথাই বলা হয়নি, অনেক কিছু মেনে নিতে পারিনি। তখন স্পাইস গার্লস বা ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ শুনে সময় কাটানো সহজ ছিল। কিন্তু ৪০ বছরে এসে সেটা আর সম্ভব নয়,”—যোগ করেন তিনি।









