আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী এক মামলায় ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টায় বাংলাদেশ জেলের প্রিজন ভ্যানে তাদের আদালতে আনা হয়।
সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের সময় ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন ছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাতজন পলাতক। আজ এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিধানসহ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি-সহ যেকোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার সম্ভব। অধ্যাদেশে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর বিষয়টি গোপন রাখে বা অস্বীকার করে, তা গুম বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন বা সর্বনিম্ন ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।









