দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি আর শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার পর জটিলতা বেড়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে। রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়ন করা নিয়ে দিনে দিনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রস্তাবিত খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মডেল বাস্তবায়ন নিয়েও। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশের মডেল অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভার্চুয়াল পাঠদান করা হলে শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নানান ডামাডোলের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পহেলা ডিসেম্বর থেকে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর আশ্বাস দিলেও সাত কলেজ শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন-তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেবেন না, হবে না ওরিয়েন্টেশেনও। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের কারণে তারা মতবিনিময় বা পরিচিতি পর্বের আয়োজন করবেন।
তথ্যমতে, ছাত্রছাত্রীরা সম্প্রতি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরই মধ্যে কলেজের শিক্ষকরা (শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা) বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। কারণ, তাদের মতে খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হবে। শিক্ষা ক্যাডারদের প্রায় দেড় হাজার পদ বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা। এ ছাড়া ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে সহশিক্ষা চালুর প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি তুলেছেন ছাত্রীরা।
সম্প্রতি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। সাত কলেজ কর্তৃপক্ষ এই শিক্ষার্থীদের দায় নিতে চাচ্ছেন না, তাই শুরু করেননি একাডেমিক কার্যক্রমও। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ক্লাস শুরুর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে ৪ ডিসেম্বর কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও ৭ ডিসেম্বর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। শীতকালীন ছুটি শেষে নতুন বছরের প্রথম দিনে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নতুন ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষকদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরাও কলেজের শিক্ষকদের কাছে ক্লাস করতে চান না। আর কলেজ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিতে আগ্রহী নন। জানা গেছে, সম্প্রতি সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া বা ওরিয়েন্টেশন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সাত কলেজের শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন-ক্লাস বা ওরিয়েন্টেশন নয় বরং প্রতিটি কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান করবেন তারা। সাত কলেজ স্বতন্ত্র রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, সাত কলেজ পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসনিক বডি থাকতে পারে বা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েশন হতে পারে। আমরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকতে চাই তবে সাতটি কলেজের স্বতন্ত্র বিলীন করে নয়।









