একসময় প্রযুক্তিপ্রেমীদের কল্পনায় ঘুরপাক খেত- সাধারণ ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে লিনাক্সই হবে উইন্ডোজ বা ম্যাকের প্রকৃত বিকল্প। সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তব না হলেও লিনাক্সেরই আরেক রূপ, অ্যান্ড্রয়েড, নীরবে দখল করে নিয়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজার।
ফোন থেকে ডেস্কটপে যাত্রা
ইতোমধ্যে স্যামসাং ডেক্স বা মটোরোলা রেডি ফর প্রমাণ করেছে, একটি স্মার্টফোনই মনিটর, কিবোর্ড ও মাউসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডেস্কটপ অভিজ্ঞতা দিতে পারে। ব্যবহারকারীরা দেখেছেন, ছোট ডিভাইসের ভিতরেই লুকিয়ে আছে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারের ক্ষমতা। এ অভিজ্ঞতাই গুগলকে আরও এক ধাপ এগোতে উৎসাহিত করেছে।
ক্রোম ওএস থেকে অ্যান্ড্রয়েডে ফোকাস
ল্যাপটপের বাজারে গুগলের ক্রোম ওএস প্রত্যাশামতো সাড়া না পেলেও অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। গুগলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট-ভবিষ্যতে আলাদা দুটি প্লাটফর্ম টিকিয়ে রাখার বদলে একীভূত অপারেটিং সিস্টেমই লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ল্যাপটপ ও ক্রোমবুকেও সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড চালানোর পথ তৈরি হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হবে পূর্ণাঙ্গ ডেস্কটপ-গ্রেড ক্রোম ব্রাউজার ও মাল্টিটাস্কিং সুবিধা।
কোয়ালকমের শক্তি, গুগলের সফটওয়্যার
এ রূপান্তরের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে কোয়ালকম। শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন চিপগুলো ইতোমধ্যে ল্যাপটপ পর্যায়ের পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। কোয়ালকমের সিইও ক্রিস্টিয়ানো আমনের ভাষায়, এটি মোবাইল ও পিসির মধ্যকার দেয়াল ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ। কম শক্তি খরচে দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং সবসময় সংযুক্ত থাকার সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড ডেস্কটপকে আলাদা মাত্রা দিতে পারে।
মাইক্রোসফট-অ্যাপলের নতুন চ্যালেঞ্জ?
অ্যান্ড্রয়েড ডেস্কটপ বাস্তবায়িত হলে পিসি জগতে শক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। যেখানে উইন্ডোজ ও ম্যাক ওএস দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বজায় রেখেছে, সেখানে অ্যান্ড্রয়েড আসতে পারে সাশ্রয়ী ও সহজ বিকল্প হিসেবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কম দামে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের ধারণা নতুন করে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
গুগল তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে, তবে ২০২৬ সাল সত্যিই স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে অ্যান্ড্রয়েড ডেস্কটপের উত্থানের বছর হিসেবে। তখন হয়তো ফোন, ট্যাবলেট আর ল্যাপটপ-সবই চলবে একই অপারেটিং সিস্টেমে, এক অভিন্ন অভিজ্ঞতায়।









