✒️-আমিনুল ইসলাম শান্ত
দেশপ্রেমের পরীক্ষিত কাঠামোতে গড়ে ওঠা পরিবারের সন্তান তারেক রহমান। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি-আদর্শ আর মাতা বেগম খালেদা জিয়ার ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ও দেশপ্রেমের আপসহীন কোলে গড়ে ওঠা তারেক রহমান যে পারিবারিক ঐতিহ্য বহন করছেন, সেটিই স্বাভাবিক।
নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, দেশপ্রেম ও তাঁর জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা কেমন হবে, সে প্রসঙ্গে লিখতে বসে একটি বিষয় সামনে আসলো।
গত ক’মাস পূর্বে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের একটি আর্টিকেল পড়েছিলাম জাতীয় দৈনিকে। ওই আর্টিকেলের শিরোনাম ছিলো ‘তারেক রহমান জেনেটিক্যালি স্মার্ট’।
এটি একটি শিরোনাম নয় কেবল; একটি টাইটেল-ই একটি ইতিহাস। জিয়াউর রহমানে ও বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত যার ধমনিতে প্রবাহিত, তাঁর দেশেপ্রেমের উচ্চতা ও গভীরতা অনুধাবন করার জন্য তাঁর গর্বিত পিতা-মাতার জীবনাদর্শ অনুধাবন করাই যথেষ্ট।
এহছানুল হক মিলন ঠিক-ই আবিষ্কার করেছিলেন, তারেক রহমান জেনেটিক্যালি স্মার্ট। সুন্দর উপমা দিয়ে তিনি সে কথাগুলো লিখেছেন।
পিতা-মাতার রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কতটা বহন করছেন তারেক রহমান?
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রায় ৫০% থেকে ৮০% বংশগতির ওপর নির্ভর করতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের গঠন, নিউরনের কাজের গতি এবং তথ্যপ্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা অনেকাংশেই বাবা-মায়ের থেকে পাওয়া ডিএনএ (DNA) দ্বারা নির্ধারিত হয়।
এখানে জনাব তারেক রহমানের কিছু গুরুত্বপূর্ন বক্তব্যের অংশবিশেষ দিয়ে ‘েজেনেটিক্যালি স্মার্ট, বিষয়টি ব্যাখ্যা করবো।
২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সাবলিলভাবে যে কথাগুলো বলেছেন, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন এবং সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশ গঠনের যে ভাবনা তুলে ধরেছেন তাতে জিয়াউর রহমানের চিন্তার প্রতিচ্ছবি আর বেগম জিয়ার রাষ্ট্র দর্শন ফুটে উঠেছে।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনাব তারেক রহমানকে জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “আপনার দলের কোনো কোনো নেতা বা সমর্থক তারা এই অভ্যুত্থানে আপনাকে ‘একমাত্র মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আপনি কি নিজেকে এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখেন?
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘না। আমি অবশ্যই এই জুলাই আন্দোলনে আমাকে আমি কখনোই মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখি না,।…’কোনো ব্যক্তি নয়, মাস্টারমাইন্ড গণতন্ত্রকামী জনগণ’
অসংখ্য প্রশ্নের মাঝে এই প্রশ্নের উত্তরটাই যদি বিশ্লেষণ করি, তিনি জুলাই বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড ক্রেডিট নিতে চাননি। ক্রেডিট দিয়েছেন জনগণকে। এটিই জনগণের প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট।
নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের ছায়া দেখা যায়। তাঁর সেদিনের বক্তব্যের একাংশ হলো-
“সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো”
১৫ বছর অনেক মানুষ গুম হয়েছে, অত্যাচারের শিকার হয়েছে- উল্লেখ করে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, সব বয়স, পেশা এবং ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে থাকে।
যেকোন মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান তিনি।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিজয়ের পর, নির্বাচনোত্তর প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থই সব থেকে আগে, তাদের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেই পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবো আমরা।’
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।’
তারেক রহমানের এসব বক্তব্যই বার্তা দিচ্ছে তিনি তাঁর পিতা-মাতার দেশপ্রেম ও আদর্শকে ধারন করেই দেশ পরিচালনা করবেন । সবার নিকট গ্রহণযোগ্য একটি দেশ গঠনের পথ পরিক্রমায় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দেশপ্রেমের ঐতিহ্য লালন করবেন। আবরও বলতে হয়, জনাব এহছানুল হক মিলন বিভিন্ন উপমা দিয়ে ঠিক-ই লিখেছেন, ‘তারেক রহমান জেনেটিক্যালি স্মার্ট’।
লেখক: সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষক









