ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র্যালি ঘিরে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সরকারবিরোধী স্লোগান দিলে পাল্টা অবস্থান নেয় সরকার সমর্থকেরা।
শনিবার স্থানীয় ও প্রবাসী কয়েকটি ইরানবিষয়ক গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরানের একটি শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে চিৎকার শোনা যায়।
বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালের ফুটেজে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
শিয়াধর্মাবলম্বীদের রীতি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির ৪০তম দিনে স্মরণসভা পালন করা হয়। এর অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান’ হিসেবে শুরু হলেও ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগানটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফার্সের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের পতাকা হাতে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছেন এবং মাস্ক পরা আরেকদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। উভয় পক্ষের হাতেই সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের ছবি দেখা যায়।
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনের মুখে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও বিদেশি উসকানির কারণে সহিংসতা ছড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই এসব বিক্ষোভ হচ্ছে। এর আগে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।









