বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের অর্জন কোনো একটি দলের নয়। এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল। মানুষ ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই ফ্যাসিবাদের পতন সম্ভব হয়েছে। আন্দোলনের সফলতা একটি অধ্যায়; কিন্তু সেই বিজয় ধরে রাখা আরও কঠিন। সুতরাং দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর দায়িত্ব হলো, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। লন্ডনের দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে এই আলোচনা সভা করা হয়।
এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমার দেশে ফেরা উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে বিদায় দিতে কেউ ভিড় করবেন না। বিমানবন্দরে গেলে একটি হট্টগোল তৈরি হবে এবং মানুষ জানবে যে, এরা সবাই বাংলাদেশি। এতে করে দেশের সুনাম নষ্ট হবে, দলের সুনাম নষ্ট হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, নারী, শিশু, গৃহিণীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসায় স্বৈরাচার সরকার
ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বিজয়ী হলে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা থাকবে। বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও শিল্প খাত যে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে
ভবিষ্যতে বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ হবে অত্যন্ত বড়। তবে জনগণের সমর্থন ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে আশাবাদী।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় মাসের মধ্যেই জনগণ এর সুফল দেখতে পাবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে চায়। শিক্ষা খাতে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।









