যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জরুরি তেলের মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ সরবরাহ বাজারে ছাড়ায় বিশ্বের কৌশলগত তেলের মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে এবং একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য জরুরি মজুতের বড় অংশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যয় হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এশিয়ার তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশ, যাদের হাতে তুলনামূলক কম মজুত রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল আনতে বেশি সময় লাগে, তারা দ্রুত সংকটে পড়তে পারে।
তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে
শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুক্রবার লেনদেন শেষে অপরিশোধিত তেলের দামের এই বৃদ্ধি দেখা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, হরমুজ প্রণালির একটি অবৈধ নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত পেয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার আইআরজিসি আরও সাতটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করে। তবে ওয়াশিংটন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার শিকার চারটি জাহাজ তখন তেল স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত ছিল এবং রাতের মধ্যে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।
অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ইয়েমেনের ওই প্রণালিসংলগ্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করে। এর আগে জুলাইয়ে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।
জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়া হয়েছে
জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বা সরকারের পক্ষে বিভিন্ন সংস্থা যে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণ করে, সেগুলোকে কৌশলগত বা জরুরি তেলের মজুত বলা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এসব মজুত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭৪ সালে আরব তেল অবরোধের পর সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
আইইএর সদস্য তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের নিট আমদানির সমপরিমাণ তেল মজুত রাখতে হয়। তবে চীন ও ভারত সংস্থাটির সদস্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর, গত ১১ মার্চ আইইএর ৩২টি সদস্যদেশ জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর বাজারে যে পরিমাণ তেল ছাড়া হয়েছিল, এবারের পরিমাণ তার দ্বিগুণেরও বেশি।
আইইএ’র তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) থেকে ১৭ কোটি ২২ লাখ ব্যারেল এবং জাপান ৭ কোটি ৯৮ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত কমে এখন ২৮ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর এটি সর্বনিম্ন পর্যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, এই তেলের বড় অংশ বিক্রি না করে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরে অতিরিক্ত তেলসহ তা ফেরত পাওয়ার কথা।
বিশ্বে ব্যবহারযোগ্য তেল অবশিষ্ট কত?
যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল মজুত ছিল, বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। এর ওপর সব মজুত থেকে দ্রুত তেল উত্তোলন করে বাজারে সরবরাহ করাও সম্ভব নয়।
স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক অ্যারন কিলডো আল-জাজিরাকে জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে চীন ও ইরানকে বাদ দিয়ে বিশ্বের কৌশলগত তেলের মজুত প্রায় ৩২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। এই হ্রাসের প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপান।
কিলডোর হিসাব অনুযায়ী, চীনের মজুত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের এমন মজুত বাদ দিলে, যা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে আটকে পড়তে পারে, বিশ্বে ব্যবহারযোগ্য তেলের পরিমাণ এখন প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল। এই মজুতের প্রায় অর্ধেক জাপানে রয়েছে।
ইউরোপে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল অবশিষ্ট রয়েছে, যা এখনও অন্য কোনও নির্দিষ্ট প্রয়োজনে বরাদ্দ করা হয়নি। তবে জার্মানির মতো কয়েকটি দেশ নিজস্ব জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মজুতের কিছু অংশ ধরে রেখেছে।
কিলডোর ভাষায়, তেল সরবরাহের সংকট কতটা তীব্র হবে, তা নির্ধারণে ইউরোপের ভূমিকা সবচেয়ে অনিশ্চিত। কারণ, দেশগুলো কখন এবং কতটা তেল বাজারে ছাড়তে রাজি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক মিউই শু জানান, চীনের স্থলভাগে সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেলের মজুত বর্তমানে প্রায় ১১৩ কোটি ব্যারেল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তা ছিল ১২৩ কোটি ব্যারেল। মজুত কমলেও চীনের শোধনাগারগুলোর প্রায় ৮০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো তেল রয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের হাতে থাকা তেলের মজুত দিয়ে দেশটির মাত্র আট দিনের আমদানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
হরমুজ ও বাব আল-মানদেব বন্ধ হলে কী হবে?
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রতিদিন এই পথে যেত প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল।
হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে পশ্চিমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানোর পরিমাণ বাড়িয়েছে। দেশটি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করে হরমুজ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ওই পাইপলাইনেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া ইয়ানবু থেকে দক্ষিণমুখী জাহাজগুলোকে বাব আল-মানদেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। সেখানে হুতিরা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় বিকল্প পথটিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
কেপলারের বিশ্লেষক মিউই শুর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩ লাখ ৭৩ হাজার ব্যারেল সৌদি অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির পর এটি সর্বনিম্ন। ইয়ানবু বন্দর থেকে আসা অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ এখন মিসর হয়ে উত্তরের পথে চলাচল করছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এবং হুতিরা সৌদি আরবের সব তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দিলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সীমিতসংখ্যক পাইপলাইন ও ইয়ানবু বন্দর থেকে উত্তরের পথে তেল পাঠানোর ওপর নির্ভর করতে হবে।
মিউই শুর হিসাব অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ বর্তমান ১ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ৭৫ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ৯৩ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
তেলক্ষেত্র, রফতানি টার্মিনাল ও পাইপলাইনে নতুন করে হামলা হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
কত দিন টিকবে জরুরি মজুত?
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার সংকট দেখা দিলে বর্তমান জরুরি মজুত দিয়ে দীর্ঘদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। সংকটের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে মজুতের ওপর চাপ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ৯৩ লাখ ব্যারেল তেলের সম্ভাব্য ঘাটতি পুরোপুরি মেটাতে হলে কিলডোর চিহ্নিত প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল ব্যবহারযোগ্য মজুত দ্রুত ব্যয় হয়ে যাবে। তবে বাস্তবে এত দ্রুত তেল বাজারে সরবরাহ করাও সম্ভব নয়।
কিলডো জানান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মজুত থেকে তুলনামূলক দ্রুত তেল সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়তে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ইউরোপ কতটা তেল ছাড়বে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আইজি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি প্রথমবার বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ব বড় ধরনের সংকট এড়াতে পেরেছিল। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আবার শুরু হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবার একইভাবে রক্ষা পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির হাতে হয়তো মাত্র এক থেকে দুই মাসের মতো সময় রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিশ্বে আক্ষরিক অর্থেই সব তেল শেষ হয়ে যাবে। বরং সরবরাহ কমে গেলে দাম এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে ভোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বাধ্য হবে। অর্থনীতির ভাষায়, চাহিদার এই পতনকে বলা হয় ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’।
বিউচ্যাম্পের মতে, এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানো খুবই বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।
ডিজেল নিয়ে বাড়বে সবচেয়ে বেশি চাপ
সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ডিজেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দামের প্রায় দ্বিগুণ পর্যায়ে রয়েছে।
সরবরাহ কমে গেলে শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদনের উপযোগী অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় নামবে। এতে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।
কিলডোর মতে, এর চূড়ান্ত চাপ গিয়ে পড়বে ভোক্তাদের ওপর। পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচও বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
প্রথম ধাক্কা খাবে এশিয়ার দেশগুলো
মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলোই সম্ভাব্য সংকটে সবচেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিলডোর মতে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেল রফতানি হয়েছে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে। ভারত ও পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিকল্প উৎস থেকে তেল আনতেও এসব দেশের বেশি সময় লাগবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে সরবরাহ পেতে যেখানে প্রায় দুই দিন লাগে, সেখানে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তেলবাহী জাহাজ আসতে ২৫ থেকে ২৮ দিন সময় লাগতে পারে।
কিলডো বলেন, সংকটের প্রভাব সব দেশে সমানভাবে পড়বে না। যেসব দেশের হাতে তেলের মজুত কম এবং বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ পেতে বেশি সময় লাগে, সেসব দেশেই সংকটের ধাক্কা সবচেয়ে দ্রুত ও তীব্র হবে।
লাভবান হবে কারা
সম্ভাব্য সংকটে একদিকে আমদানিনির্ভর দেশগুলো চাপে পড়বে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের তেল উৎপাদকদের আয় বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুদ্ধ চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ১৪৫০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শেভরনের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২০০ কোটি ডলারে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর শেল-এর মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ১০০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চ তেলের দাম এসব কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
কেপলারের বিশ্লেষক মিউই শুর মতে, নতুন করে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তেল শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা ও রাশিয়া থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা বাড়াবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকরা উচ্চমূল্যের পাশাপাশি তুলনামূলক কম পরিবহন ব্যয়ের সুবিধাও পেতে পারেন।
গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সনমোবিল ও শেভরনের মতো কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, সরবরাহসংকটের সুযোগে তারা ‘অতিরিক্ত অর্থ’ আয় করছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সংকটটি শুধু তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতির ওপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। আর জরুরি মজুত কমে আসায় সম্ভাব্য নতুন ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা









