বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬

Image Not Found
ব্রেকিং নিউজ
  • Home
  • ধর্ম
  • ইসলামিক জীবনমন্ত্র: আখিরাতমুখী চেতনাবোধই মানুষের প্রধান লক্ষ্য

ইসলামিক জীবনমন্ত্র: আখিরাতমুখী চেতনাবোধই মানুষের প্রধান লক্ষ্য

Image

ইসলামের প্রধানতম স্বভাব বৈশিষ্ট্য হলো আখিরাতমুখী চেতনাবোধ। এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়, খুবই সীমিত তার সময়। এর সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, বিত্ত-বৈভব, ক্ষমতা ও শক্তি, ইজ্জত-সম্মান, অসম্মান কোনো কিছু স্থায়ী নয়। পাহাড়-পর্বত, আকাশ-জমিন, নদী-সমুদ্র, বন-বনানী সবকিছু যাবে ধ্বংস হয়ে।

সারাক্ষণ এর মধ্যে পরিবর্তন ঘটছে। একটা পরিবর্তন আরেকটা ধ্বংসের জানান দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই মানুষও মরণশীল। মরণেই কি তার সব শেষ? না, আখিরাতের এক চিরস্থায়ী জীবন তার জন্য অপেক্ষা করছে।

সেখানে সুখ হলে, সে সুখের শেষ নেই; আর কষ্টের জীবন হলে, সে কষ্টেরও কোনো শেষ নেই। অনন্তকাল ভুগতে হবে তাতে।

এই জগৎ, এই পৃথিবী, এই সময়কাল, এই সীমিত জীবনপরিধি হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। এখান থেকেই আখিরাত কামাই করে নিতে হবে।

শস্য বুনবে এখানে, আর ভোগ করবে আখিরাতে। ঈমান ও আমল, সৎ ও নেককাজ হলো এর বীজ। নেক আমল করে যে সুখ-শান্তি ভোগের বীজ বুনবে এখানে, সে ফলে-ফসলে প্রাপ্ত হবে আখিরাতে, জান্নাতে। সুখময়তার শেষ হবে না কখনো। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘আখিরাত হলো উত্তম এবং চিরস্থায়ী।’ (সুরা : আল আলা, আয়াত : ১৭)

পক্ষান্তরে এ জমিন যদি কেউ কর্ষণ না করে, চাষাবাদ না করে, নেককাজের বীজ না বুনে, তবে ক্ষতিকর আগাছা-পরগাছায় কণ্টকাকীর্ণ হয়ে যাবে, বিষধর সব পোকামাকড় জন্তু-জানোয়ারের আবাসে পরিণত হবে তা। এর নিদারুণ নির্মম পরিণামও একজনকে ভোগ করতে হবে আখিরাতে, জাহান্নামে। এর নির্মম কষ্ট, এর অসহনীয় যাতনারও শেষ নেই, অন্ত নেই। ইরশাদ হচ্ছে, ‘এতেই তাদের বসবাস করতে হবে চিরকাল, চিরস্থায়ী হবে সেখানে তারা।’

সর্বযুগের নবী-রাসুলরা বলেছেন, দুনিয়া ভোগের জায়গা নয়, ভোগের জায়গা হলো আখিরাত, জান্নাত বা জাহান্নাম। রাসুল (সা.) সব কাজে এই আখিরাতমুখিতায় উম্মতকে গড়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। কোনোরূপ হীনম্মন্যতার সম্মুখীন না হয়ে স্পষ্ট ও একান্ত জোড়ালোভাবে তুলে ধরেছেন আখিরাতের পুরস্কার অথবা শাস্তির কথা। এতে কোনো রাখঢাক ছিল না তাঁর।

আকাবার দ্বিতীয় শপথের সময় মদিনার আনসারি সাহাবিদের সঙ্গে যখন হিজরতের আলোচনা চূড়ান্ত হচ্ছিল, মুহূর্তটি ছিল খুবই নাজুক। সমাজনায়ক হোক বা সমরনায়ক, লোকরঞ্জন নেতা হোক বা ভাগ্যান্বেষী সর্দার যে কেউ এখানে এসে স্খলিতপদ হয়ে যেত, ছিটকে পড়ত তার পথ থেকে। কিন্তু স্ফীতবক্ষ, দৃঢ়চিত্ত, আল্লাহনির্ভর, নিঃশঙ্ক-হৃদয় রাসুল (সা.) পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিলেন নিজেকে, পরিণতি ও পরিণামকে।

ইসলামের আগেও হজের প্রচলন ছিল। ইয়াসরিব অর্থাৎ মদিনার আওস ও খাজরাজ গোত্রের কিছু লোক তখন হজ করতে আসেন। এরা সংখ্যায় ছিল ৭২ জন পুরুষ ও দুজন নারী। মিনায় এক গিরিখাতের কাছে তাঁরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাসুল (সা.) হজের সময় মিনায় ইসলামের দাওয়াত দিতেন। আগের বছরও মদিনার ১২ জনের একটি দলের সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল এখানেই, তাঁরাই এই ৭২ জনকে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় হিজরত করার আহবান জানান তাঁকে।

সর্বতোভাবে নিজেদের পরিবার-পরিজনের মতো রাসুল (সা.)-এর হেফাজত ও নিরাপত্তা দানের অঙ্গীকার করেন।

এ সময় কেউ কেউ তাঁদের সতর্ক করে এর কঠিন পরিণামের কথা ভেবে দেখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন যে এই অঙ্গীকার হচ্ছে সারা মুশরিক আরবের দুশমনি যেচে বরণ করার নামান্তর। উপস্থিত আনসারিরাও এর ভীষণ আশঙ্কাজনক পরিণাম সম্পর্কে জানতেন। সব আশঙ্কা ও বিপদ মাথায় নিয়েও তাঁরা বললেন, আমাদের ধনসম্পদের সমূহ ক্ষতি, আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার আশঙ্কা সামনে রেখেই সবকিছু জেনেশুনে আমরা এই অঙ্গীকার করছি।

শেষে তাঁরা রাসুল (সা.)-এর কাছে আরজ করলেন, হে রাসুল, আমরা যদি আমাদের অঙ্গীকার পূরণ করি, তবে আমরা কী পাবো?

কী ভীষণ নাজুক মুহূর্ত! একদিকে আপন জ্ঞাতিগোষ্ঠীর হাতে নির্যাতিত রাসুল (সা.)-এর বহুদিন পর পাওয়া আশ্রয় আশা, আরেক দিকে ইহুদি বেনিয়াদের হাতে উত্পীড়িত-নিপীড়িত মদিনার আনসারীদের বাঁচার আকুতি, আগামী দিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর রাসুল (সা.) দুনিয়ার কোনো লাভের কথা না বলে জলদগম্ভীর কণ্ঠে ছোট্ট করে বললেন, ‘জান্নাত’।

দুনিয়ার কিছু নয়, জাগতিক কোনো আশ্বাস নয়, আখিরাতকেই তিনি মুখ্য করে তুলে ধরলেন তাঁদের সামনে, আর সৌভাগ্যবান ইয়াসরিববাসীরা জান্নাতের বিপুল আশ্বাসময় প্রত্যয় নিয়ে ফিরে গেলেন মদিনায়। পৃথিবী দেখেছে, জান-মাল, ইজ্জত, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, পরিজন সবকিছু তাঁরা অকাতরে কোরবান করেছেন এই অঙ্গীকার রক্ষায়, জান্নাত ছাড়া আর কিছুই চাননি তাঁরা। পরবর্তী সময়ে খলিফারা, এমনকি রাসুল (সা.) নিজেও তাঁদের দিতে চেয়েছেন অনেক কিছু; কিন্তু আখিরাতই ছিল তাঁদের মুখ্য।

আখিরাতমুখী মানসিকতা গঠনের প্রতি রাসুল (সা.) সব সময় লক্ষ রাখতেন। এক জিহাদের পর সাহাবিরা সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করছিলেন। জনৈক সাহাবির এই ব্যবসায়ে খুব লাভ হয়। তিনি খুশি মুখে রাসুল (সা.)-কে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আজকে আমার অনেক লাভ হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত লাভ আর কেউ করতে পারেনি। রাসুল (সা.) বলেন, কত? সাহাবি বললেন, ৩০০ উকিয়া রৌপ্যমুদ্রা।

রাসুল (সা.) বললেন, এর চেয়ে উত্তম লাভ অর্জনের কথা কি বলব? শোনো, ফরজ নামাজ আদায় করে দুই রাকাত নফল যদি আদায় করো তবে তা এর চেয়ে অনেক বেশি উত্তম।

নবীকন্যা, আদরের দুলালী ফাতিমা (রা.)-কে নিজের হাতেই সব কাজ করতে হতো। আলী (রা.) বলেন, চাক্কি পিষার দরুণ ফাতিমার হাতে কড়া পড়ে গিয়েছিল, মশক ভরে পানি আনতে আনতে বুকে মশকের রশির দাগ পড়ে গিয়েছিল, ঘরবাড়ি ঝাড়ু দিতে গিয়ে কাপড়চোপড় ময়লা হয়ে যেত। একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে কিছু খাদেম এলে আমি তাকে বললাম, ‘একজন খাদেম চেয়ে আনো। এতে তোমার কিছু লাঘব হবে।’ তিনি গিয়ে দেখেন রাসুল (সা.)-এর কাছে অনেক মানুষ। কিছুই না বলে চলে এলেন। পরদিন রাসুল (সা.) নিজেই এলেন। বললেন, ফাতিমা, কী দরকারে গিয়েছিলে? লজ্জায় ফাতিমা (রা.) কিছুই বলতে পারলেন না। আলী (রা.) বলেন, আমি তখন সবিস্তার সব কথা বললাম। রাসুল (সা.) বললেন, ‘ফাতিমা, আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, ফরজ বিষয়গুলো সমাধা করতে থাকো, নিজের হাতেই ঘরের কাজ করতে থাকো।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমি কি তোমাকে খাদেম বা চাকরবাকরের চেয়েও উত্তম বিষয় বলব? শোনো, শয়নের সময় ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। এই তাসবিহগুলো খাদেমের চেয়ে অনেক উত্তম। ফাতিমা (রা.) বললেন, ‘আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সন্তুষ্ট।’

(ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস : ৫০৪৭)

কল্পনা করা যায়, এই ছিল দোজাহানের বাদশাহ নবী (সা.)-এর প্রিয় দুহিতা, আদরের-সোহাগের দুলালীর অবস্থা। কিভাবে রাসুল (সা.) তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে আমলমুখী করেছেন, আখিরাতমুখী করেছেন।

একান্ত যৌনতার বিষয়কেও, প্রবৃত্তির বিষয়ের ক্ষেত্রেও রাসুল (সা.) এই উম্মাহকে আখিরাতমুখী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, স্ত্রীর মুখে সোহাগভরে খাবার তুলে দেওয়ায়ও সদকা করার সওয়াব রয়েছে। (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস : ৫৬)

শুধু যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না, সদকার মতো সওয়াবও এতে নিহিত রয়েছে।

তিনি সব সময়ই উম্মাহকে গড়তে গিয়ে ‘গায়রুল্লাহ’ থেকে আল্লাহর দিকে; জাগতিক উপকরণের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার চেয়ে নেক আমলের দিকে এবং দুনিয়া থেকে আখিরাতের চেতনার দিকে ধাবিত করতে প্রয়াস চালিয়ে গেছেন।

Releated Posts

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার…

মার্চ ১০, ২০২৬
কিউবা দখলের ব্যাপারে যা জানালেন ট্রাম্প

কিউবা দখলের ব্যাপারে যা জানালেন ট্রাম্প

কিউবার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে দেশটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফ্লোরিডার…

মার্চ ১০, ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, টিঅ্যান্ডটি মাঠে জনতার ঢল

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, টিঅ্যান্ডটি মাঠে জনতার ঢল

নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি…

মার্চ ১০, ২০২৬
নেপাল সরকার ও জনগণকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন

নেপাল সরকার ও জনগণকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন

নেপালে সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।…

মার্চ ১০, ২০২৬
প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪ পরিবার

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪ পরিবার

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে…

মার্চ ৯, ২০২৬
ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৭ দিনে ৮৩ শিশু নিহত: ইউনিসেফ

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৭ দিনে ৮৩ শিশু নিহত: ইউনিসেফ

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে অন্তত ৮৩ শিশু নিহত এবং ২৫৪…

মার্চ ৯, ২০২৬
তুরস্কে কি আবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

তুরস্কে কি আবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

তুরস্ককে লক্ষ্য করে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ায় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আঙ্কারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট…

মার্চ ৯, ২০২৬
ভোজ্যতেলের দাম একফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভোজ্যতেলের দাম একফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তেলের দাম একফোঁটাও বাড়ার সম্ভাবনা নেই।  তিনি বলেন,…

মার্চ ৯, ২০২৬
আরও ১০টি আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন পান্ডিয়া

আরও ১০টি আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন পান্ডিয়া

ভারতের পেস বোলিং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও শীর্ষে উঠার লক্ষ্য ব্যক্ত করেছেন। টানা বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা…

মার্চ ৯, ২০২৬
ইসলামিক জীবনমন্ত্র: আখিরাতমুখী চেতনাবোধই মানুষের প্রধান লক্ষ্য - crd.news