স্বাধীনতার ২৫০ বছর
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চলতি গ্রীষ্ম থেকেই বাজারে আসছে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট, যার ভেতরের প্রচ্ছদে বড় আকারে থাকবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, বিশেষ এই পাসপোর্টে আধুনিক চিত্র প্রযুক্তি ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরের কভারে ট্রাম্পের বড় প্রতিকৃতির চারপাশে থাকবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশবিশেষ, জাতীয় পতাকার নকশা এবং সোনালি রঙে তার স্বাক্ষর।
জানা গেছে, এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ২৫০’ কর্মসূচির অংশ। স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরও নানা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রাঙ্গণে গাড়ি প্রতিযোগিতা এবং হোয়াইট হাউসের লনে লড়াইয়ের আয়োজনও রয়েছে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় নথিতে কোনো বর্তমান নেতার ছবি ব্যবহার ব্যক্তিপূজারই নতুন দৃষ্টান্ত। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ভবন ও নথিতে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল।
অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের এক দপ্তরে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবির পাশে ট্রাম্পের ছবি বসানো হয়েছে বলেও জানা যায়। এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় উদ্যান পাসে জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিও সংযোজন করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদও হয়েছে নানা মহলে।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে রাজধানী ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু স্বর্ণালী বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রশাসনিকভাবে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প বিজয় তোরণ’। উচ্চতায় এটি ক্যাপিটল ভবন ও লিংকন স্মৃতিসৌধকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার চেষ্টা। তবে প্রশাসনের দাবি, স্বাধীনতার ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান









