বুধবার । সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

Image Not Found
ব্রেকিং নিউজ
  • Home
  • জাতীয়
  • দেশপ্রেমের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া

দেশপ্রেমের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া

Image

সম্প্রীতি এমনই এক সূক্ষ্ম অথচ অনিবার্য উপাদান, যা চোখে দেখা না গেলেও মনশ্চক্ষু বা অন্তরাবলোকন দিয়ে গভীরভাবে অনুভব করা যায়। এটি কেবল শান্ত বা নীরব থাকার নাম নয়; এটি আসলে পরিচ্ছন্ন চিন্তাধারা, উভয়ের প্রতি নীতি ও আদর্শগত সাম্য এবং সর্বোপরি এক গভীর মানবিক বিবেচনাবোধের সম্মিলিত ফল। প্রতিটি মানুষের মধ্যে যখন সহযোগিতা, আস্থা ও বিশ্বাসের হাত প্রসারিত হয় এবং সেই হাতগুলো অটুটভাবে আবদ্ধ হয়, তখনই একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে সত্যিকারের সম্প্রীতির আবহ গড়ে ওঠে। এ আবহ জাগতিক নিয়মে এককভাবে তৈরি হয় না-এটি নিজের পরিবার থেকে শুরু হয়ে গ্রাম, সমাজ, জেলা, বিভাগ পেরিয়ে অবশেষে সমগ্র বিশ্ব দরবারে জাতির পরিচয় বহন করে।

আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে সেই প্রত্যাশা যখন নাগরিকদের মনে দানা বাঁধে, তখন সামাজিক শৃঙ্খলার মাঝে ঐক্য, প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধনে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ সম্প্রীতি গড়ে তোলাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই লক্ষ্য হাসিল আজ এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন। কারণ, আজ দেশের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্যতম, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।

বেগম জিয়ার জীবন শুরু হয়েছিল এক কঠিন সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। স্বল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। স্বামী, তখনকার মেজর জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তখন তিনি তার দুই শিশু পুত্রসহ চরম অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুর মুখে দিনযাপন করেন। সেই শুরু তার কঠিন সংগ্রাম। এরপর সামরিক পটপরিবর্তন, ১৯৭৫ সালের আগস্ট ও ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতির প্রেক্ষাপটে আসে আরও শ্বাসরুদ্ধকর জীবন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ও আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হলে বেগম খালেদা জিয়া অসময়ে স্বামীহারা হন।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কেবল ব্যক্তিগত শোকে মুহ্যমান হয়ে থাকেননি, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জাতিসত্তার আদর্শ রক্ষায় রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের গুরুভার কাঁধে তুলে নেন। স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছরের সংগ্রামে তার নেতৃত্ব ছিল ঐক্য ও গণ-আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি বাংলাদেশে নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার সরকার অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সে সময়ের অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পায়। যেমন-যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস ম্যাগাজিনের কভার প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার’ শিরোনামে তাকে তুলে ধরে, যা ছিল দেশের অর্থনৈতিক উত্থানের এক শক্তিশালী প্রমাণ।

কিন্তু এ সাফল্য কিছু দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহলের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন, যেখানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে এক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি ‘জনতার মঞ্চ’ নামে সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের উপস্থিতি এবং সংসদ থেকে বিরোধী দলের পদত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সংকটের মুখে ফেলে দেয়। এ পরিস্থিতিতে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও সংবিধান সংশোধনীর প্রয়োজনে ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী গৃহীত হয় এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরে আসে, যা ছিল রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক ঐতিহাসিক অর্জন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সে ঐতিহাসিক অর্জন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে দেয়। সেদিন থেকেই যেন বাংলাদেশ নব্য বাকশালী শাসনে ধাবিত হতে থাকে এবং রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র ও অনমনীয় হয়ে ওঠে। বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর জুলম-নিপীড়ন, গুম, হত্যা ও কারাগারে পাঠানোর অবর্ণনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে বিদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন। বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্বাসনে আছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুরতম আচরণ করেছেন। বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার পর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ফরমায়েশি রায়ে তাকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে নেওয়া হয়। এতেও তিনি ভেঙে পড়েননি। কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বেগম খালেদা জিয়া কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে কোনো উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আজ তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এক কঠিন অবস্থার মুখোমুখি। প্রতিনিয়ত দেশে-বিদেশের কোটি কোটি নাগরিক তার জন্য দোয়া করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। ইনশাআল্লাহ, তিনি সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন-এ আত্মবিশ্বাস মহান আল্লাহর ওপর সবাই রাখছেন।

পুরো জীবনটাই যার দেশের ও সমাজের জন্য সংগ্রামে জড়িত, এখনো তিনি হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়েও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখছেন। তাইতো তিনিই সত্যিকার অর্থে ‘দেশমাতা’। তার দেওয়া দেশের কল্যাণে একতাবদ্ধ হয়ে সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করে আমরা এগিয়ে যাব এবং ‘৩১-দফা’র ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব, এ প্রত্যয়ই আজ এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

শায়রুল কবির খান : সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Releated Posts

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এক্সিট গেটের বাইরে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৫২ মিনিটে একটি…

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
অপ্রতিমকে কীভাবে হত্যা করা হয়, পুরো ঘটনার বর্ণনা দিলো পুলিশ

অপ্রতিমকে কীভাবে হত্যা করা হয়, পুরো ঘটনার বর্ণনা দিলো পুলিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে রিপাবলিকানরা

ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে রিপাবলিকানরা

রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কমেছে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে পরিস্থিতি ভালো নয় এবং চাপের মুখে রয়েছে মার্কিন অর্থনীতি।  এর মধ্যেও নির্বাচনী…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সরকার স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা তৈরি ও উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

সরকার স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা তৈরি ও উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

 বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম…

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, বিভিন্ন দেশে জনঅসন্তোষ-বিক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, বিভিন্ন দেশে জনঅসন্তোষ-বিক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে জ্বালানি তেলের বাজার। সরবরাহ লাইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম প্রতিনিয়ত…

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?

টানা তিন দফা কমার পর সবশেষ শনিবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ১…

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬