সোমবার । মে ১৮, ২০২৬

Image Not Found
ব্রেকিং নিউজ
  • Home
  • জাতীয়
  • দেশপ্রেমের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া

দেশপ্রেমের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া

Image

সম্প্রীতি এমনই এক সূক্ষ্ম অথচ অনিবার্য উপাদান, যা চোখে দেখা না গেলেও মনশ্চক্ষু বা অন্তরাবলোকন দিয়ে গভীরভাবে অনুভব করা যায়। এটি কেবল শান্ত বা নীরব থাকার নাম নয়; এটি আসলে পরিচ্ছন্ন চিন্তাধারা, উভয়ের প্রতি নীতি ও আদর্শগত সাম্য এবং সর্বোপরি এক গভীর মানবিক বিবেচনাবোধের সম্মিলিত ফল। প্রতিটি মানুষের মধ্যে যখন সহযোগিতা, আস্থা ও বিশ্বাসের হাত প্রসারিত হয় এবং সেই হাতগুলো অটুটভাবে আবদ্ধ হয়, তখনই একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে সত্যিকারের সম্প্রীতির আবহ গড়ে ওঠে। এ আবহ জাগতিক নিয়মে এককভাবে তৈরি হয় না-এটি নিজের পরিবার থেকে শুরু হয়ে গ্রাম, সমাজ, জেলা, বিভাগ পেরিয়ে অবশেষে সমগ্র বিশ্ব দরবারে জাতির পরিচয় বহন করে।

আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে সেই প্রত্যাশা যখন নাগরিকদের মনে দানা বাঁধে, তখন সামাজিক শৃঙ্খলার মাঝে ঐক্য, প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধনে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ সম্প্রীতি গড়ে তোলাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই লক্ষ্য হাসিল আজ এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন। কারণ, আজ দেশের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্যতম, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।

বেগম জিয়ার জীবন শুরু হয়েছিল এক কঠিন সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। স্বল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। স্বামী, তখনকার মেজর জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তখন তিনি তার দুই শিশু পুত্রসহ চরম অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুর মুখে দিনযাপন করেন। সেই শুরু তার কঠিন সংগ্রাম। এরপর সামরিক পটপরিবর্তন, ১৯৭৫ সালের আগস্ট ও ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতির প্রেক্ষাপটে আসে আরও শ্বাসরুদ্ধকর জীবন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ও আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হলে বেগম খালেদা জিয়া অসময়ে স্বামীহারা হন।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কেবল ব্যক্তিগত শোকে মুহ্যমান হয়ে থাকেননি, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জাতিসত্তার আদর্শ রক্ষায় রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের গুরুভার কাঁধে তুলে নেন। স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছরের সংগ্রামে তার নেতৃত্ব ছিল ঐক্য ও গণ-আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি বাংলাদেশে নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার সরকার অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সে সময়ের অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পায়। যেমন-যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস ম্যাগাজিনের কভার প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার’ শিরোনামে তাকে তুলে ধরে, যা ছিল দেশের অর্থনৈতিক উত্থানের এক শক্তিশালী প্রমাণ।

কিন্তু এ সাফল্য কিছু দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহলের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন, যেখানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে এক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি ‘জনতার মঞ্চ’ নামে সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের উপস্থিতি এবং সংসদ থেকে বিরোধী দলের পদত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সংকটের মুখে ফেলে দেয়। এ পরিস্থিতিতে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও সংবিধান সংশোধনীর প্রয়োজনে ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী গৃহীত হয় এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরে আসে, যা ছিল রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক ঐতিহাসিক অর্জন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সে ঐতিহাসিক অর্জন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে দেয়। সেদিন থেকেই যেন বাংলাদেশ নব্য বাকশালী শাসনে ধাবিত হতে থাকে এবং রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র ও অনমনীয় হয়ে ওঠে। বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর জুলম-নিপীড়ন, গুম, হত্যা ও কারাগারে পাঠানোর অবর্ণনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে বিদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন। বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্বাসনে আছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুরতম আচরণ করেছেন। বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার পর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ফরমায়েশি রায়ে তাকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে নেওয়া হয়। এতেও তিনি ভেঙে পড়েননি। কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বেগম খালেদা জিয়া কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে কোনো উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আজ তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এক কঠিন অবস্থার মুখোমুখি। প্রতিনিয়ত দেশে-বিদেশের কোটি কোটি নাগরিক তার জন্য দোয়া করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। ইনশাআল্লাহ, তিনি সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন-এ আত্মবিশ্বাস মহান আল্লাহর ওপর সবাই রাখছেন।

পুরো জীবনটাই যার দেশের ও সমাজের জন্য সংগ্রামে জড়িত, এখনো তিনি হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়েও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখছেন। তাইতো তিনিই সত্যিকার অর্থে ‘দেশমাতা’। তার দেওয়া দেশের কল্যাণে একতাবদ্ধ হয়ে সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করে আমরা এগিয়ে যাব এবং ‘৩১-দফা’র ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব, এ প্রত্যয়ই আজ এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

শায়রুল কবির খান : সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Releated Posts

সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি একটুও ভাবি না : ট্রাম্প

সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি একটুও ভাবি না : ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি…

মে ১৩, ২০২৬
এলজিইডি’র প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

এলজিইডি’র প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

এলজিইডি’র অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল…

মে ১৩, ২০২৬
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা বহন করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের ভঙ্গুর…

মে ১৩, ২০২৬
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ…

মে ১৩, ২০২৬
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

দশ বছরে এসএসসি এবং ১২ বছরে এইচএসসি পরীক্ষার লক্ষ্য নিয়ে সিলেবাস সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন…

মে ১৩, ২০২৬
হামের টিকার তদন্ত নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকার তদন্ত নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে, সেটা খোঁজার…

মে ১৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে। আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ…

মে ১৩, ২০২৬
ঢাবিতে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাবিতে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মশালা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী…

মে ১২, ২০২৬
ক্রাউন প্লাজা ও ব্র্যাক ব্যাংক তারা-এর মেলবন্ধনে উদযাপিত হলো ‘দ্য মাদারহুড মুভমেন্ট’

ক্রাউন প্লাজা ও ব্র্যাক ব্যাংক তারা-এর মেলবন্ধনে উদযাপিত হলো ‘দ্য মাদারহুড মুভমেন্ট’

ঢাকার গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলে রবিবার বিশ্ব মা দিবসে অনুষ্ঠিত হলো “দ্য মাদারহুড মুভমেন্ট” — মাতৃত্ব ও উদ্যোক্তা…

মে ১০, ২০২৬