শনিবার । অক্টোবর ২৪, ২০২৬

Image Not Found
ব্রেকিং নিউজ

বিশ্বজুড়ে কেন রাজপথে জেন-জিরা?

Image

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব আন্দোলনের অনেকগুলোই ‘জেন-জি বিক্ষোভ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় ১৩ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এসব আন্দোলনে উঠে আসছে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত নানা দাবি। দেশভেদে বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ আলাদা হলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং সরকারের প্রতি তরুণদের অসন্তোষ।

ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ভুগতে থাকা বিদ্যালয়গুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে এসব কর্মসূচিতে পাঁচ লাখ থেকে আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বেড়েছে।

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জোরালো চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ককরোচ’ আন্দোলন। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহে আন্দোলনটির নেতাকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পেনেও আবাসনব্যবস্থার সংকট এবং উচ্ছেদের হাত থেকে পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ আইন নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষায় জনপ্রিয় একটি আইন প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর মারা যান মারিকারমেন।

দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আলাদা হলেও চলমান বিক্ষোভের পেছনে বৈষম্য একটি অভিন্ন কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই বৈষম্যের দুটি দিক রয়েছে- একটি শ্রেণিগত, অন্যটি প্রজন্মগত।

২০০৮ সালের সংকটের পর বেড়েছে বৈষম্য
ইউরোপজুড়ে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আয়বৈষম্য বাড়ার পাশাপাশি সম্পদের অসম বণ্টনও আরও প্রকট হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একসময় শক্তিশালী বলে বিবেচিত ইউরোপের কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়া।

একসময় ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো সবার জন্য মানসম্মত সরকারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিত। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষের জীবনযাপনের একটি ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা এবং এমন একটি সুযোগভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

কিন্তু বছরের পর বছর সরকারি ব্যয় সংকোচনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য জনসেবা দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। রাষ্ট্রীয় সেবার পরিসর সংকুচিত হওয়ায় বৈষম্য আরও বেড়েছে। যাদের অর্থ আছে, তারা বেসরকারি খাতে উন্নত সেবা কিনতে পারছেন। অন্যদিকে, অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতির চাপ তরুণদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে। একের পর এক ক্ষেত্রে সুশাসনের ঘাটতি তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ করে তুলছে। অনেক তরুণের কাছে তাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদির প্রজন্মের তুলনায় ভালো জীবন গড়ার সুযোগ এখন আরও সীমিত বলে মনে হচ্ছে।

দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
শিক্ষাব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি- পিসার ফলাফলে পড়া ও গণিতের দক্ষতা কমে যাওয়ার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি এ পরিস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তবে শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের ব্যর্থতাও এখানে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়ার গতি ধীর। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর জোরালো তদবিরও নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এআই বিপ্লব তরুণদের কর্মজীবন শুরুর ক্ষেত্রেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। কর্মসংস্থানে এআইয়ের সামগ্রিক প্রভাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও প্রাথমিক স্তরের অনেক কাজ ক্রমেই যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে অভিজ্ঞতাহীন তরুণদের জন্য চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবাসনসংকটে পিছিয়ে তরুণ প্রজন্ম
আবাসনও তরুণদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের আয়ের অনেক বড় অংশ বাড়িভাড়া দিতে ব্যয় হচ্ছে। আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় তাদের আয়ের বিপরীতে ভাড়ার বোঝা বেশি- এমন চিত্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে।

এর ফলে বাড়ি কেনা তো দূরের কথা, নিয়মিত আয় দিয়ে ভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, আবাসনসংকট কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

আবাসন সরবরাহ, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা এই সংকটকে আরও গভীর করছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে।

জলবায়ু সংকট বাড়াচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
তরুণদের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুতর শাসনগত ব্যর্থতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তসরকার প্যানেল- আইপিসিসির প্রতিবেদনগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জীবন তাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদির প্রজন্মের তুলনায় বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বৈষম্য কম এমন সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। কারণ সেখানে সম্মিলিত উদ্যোগে অভিযোজন, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সুযোগ বেশি থাকে।

অন্যদিকে, বৈষম্যপূর্ণ সমাজে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দায়িত্ব অনেকাংশে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর পড়ে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠী আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা, বাড়তে পারে ক্ষোভ
শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া তরুণদের মধ্যে অসন্তোষকে তীব্র করছে। এসব সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব পরিস্থিতিকে বিস্ফোরণোন্মুখ করে তুলেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম ও মাদ্রিদের রাজপথে তরুণদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটছে।

বিক্ষোভের জবাবে অনেক সরকার কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিক্ষোভবিরোধী আইন, গ্রেফতার এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বিশ্বজুড়েই বাড়ছে।

কখনও এসব পদক্ষেপ আন্দোলন দুর্বল করে দিতে পারে। আবার কখনও তা বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফ্রান্স ও ভারতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় প্রবণতিই দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও ক্ষোভ
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। সম্প্রতি বিক্ষোভে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ব্রাসেলসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়েজেও বিক্ষোভ দমনে জলকামান ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং বড় শহরগুলোতে আবাসনসংকটের প্রতিবাদে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার মানুষ মিছিল করেছেন।

২০১৭ সালের পর থেকে পর্তুগালে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও প্রায় একই হারে বেড়েছে।

দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম এ বিষয়ে বলেন, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা যাবে না। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশের নেতারা সাধারণ মানুষের সমস্যার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।

ইতালিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সম্প্রতিইতালির মিলানে একটি মিছিল শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, রাস্তার পাথরের খণ্ডসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে থাকেন। পাশাপাশি টেবিল ব্যবহার করে তৈরি করা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ইতালির বার্তা সংস্থা লাপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিক্ষোভ করা অধিকার, কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া নয়। মিলানের মধ্য-বামপন্থী মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, বিক্ষোভের পেছনের কারণগুলো বোধগম্য হলেও পুলিশের ওপর হামলা ও শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বোলোনিয়াতেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আরও দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্দোলন
প্যারিসের এইচইসি বিজনেস স্কুলের ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন ও নীতিবিষয়ক অধ্যাপক আলবের্তো আলেমান্নোর মতে, ফ্রান্স বর্তমানে এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও অন্যান্য দেশেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গ্রিস, জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায়ও আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ের ইঙ্গিত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে এসব দেশেও বিক্ষোভ জোরালো হতে পারে।

তার মতে, এসব বিক্ষোভ একই আন্দোলনের অংশ নয়; বরং একই সময়ে বিভিন্ন দেশে দেখা দেওয়া পৃথক প্রতিবাদ। তবে শিক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পড়াশোনা শেষে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মতো কিছু অভিন্ন উদ্বেগ এসব আন্দোলনকে একসূত্রে গেঁথেছে।

আগামী এক বছরে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে বিক্ষোভের বিস্তার ইউরোপের রাজনৈতিক আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সমাধান কোথায়?
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তরুণদের রাজপথে নামার পেছনে থাকা বৈষম্য ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগই এখন সবচেয়ে জরুরি। কেবল বিক্ষোভ দমন করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এর অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না।

মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আবাসনসংকট মোকাবিলা, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের ক্ষোভের পেছনে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারগুলো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই অসন্তোষ আরও বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। জেন-জি বিক্ষোভ তাই কেবল তরুণদের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ নয়; বরং বৈষম্য, সুযোগের অসমতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষেরও প্রতিফলন। সূত্র: আল-জাজিরা

Releated Posts

সরকার আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তরিক : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

সরকার আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তরিক : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সরকার আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তরিক। এরই…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে পরিণত করতে হবে: পর্যটনমন্ত্রী

কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে পরিণত করতে হবে: পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলতে পরিকল্পিত উন্নয়ন,…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে বিশ্বে তেলের মজুত আর কত দিন চলবে?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে বিশ্বে তেলের মজুত আর কত দিন চলবে?

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা বেড়ে যাওয়ায়…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
শেষ টেস্টে অজিদের বিপক্ষে নেই দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার

শেষ টেস্টে অজিদের বিপক্ষে নেই দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার

কুচকির সামান্য চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার এনরিখ নর্কিয়া। সিরিজটি এখন ১-১…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
পর্যায়ক্রমে সব রাস্তা উন্নয়ন করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী

পর্যায়ক্রমে সব রাস্তা উন্নয়ন করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, জেলায় কোন রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব রাস্তা উন্নয়ন করা হবে।…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
নতুন দামে আজকের স্বর্ণের ভরি

নতুন দামে আজকের স্বর্ণের ভরি

দেশের বাজারে সবশেষ শুক্রবার আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি

খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি

খুলনার তেরখাদায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে খুলনা…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ সামরিক বাহিনী গড়ার নির্দেশ কিমের

বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ সামরিক বাহিনী গড়ার নির্দেশ কিমের

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে সেনাদের প্রশিক্ষণ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ…

অক্টোবর ২৪, ২০২৬