জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আটক করা ঠিকানা পরিবহনের ছয়টি বাস ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এই সমাধান হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর আটক করা ঠিকানা পরিবহনের ছয়টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মধ্যস্থতায় পরিবহন মালিকপক্ষ আহত শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করলে শিক্ষার্থীরা বাসগুলো ছেড়ে দেন। এ সময় পরিবহন মালিকপক্ষ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে সাভারের বিশমাইল এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী একটি ‘ঠিকানা পরিবহন’ বাসে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আল মামুন বাসে উঠে ডেইরি গেটে নামতে চাইলে চালকের সহকারী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসে না তোলার কথা বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাসটির আরেক সহকারী চলন্ত অবস্থায় আল মামুনকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দেয়। এতে তিনি হাঁটু, হাত ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে ঠিকানা পরিবহনের ছয়টি বাস আটক করেন।
ঠিকানা পরিবহনের ম্যানেজার মো. কবির ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, মালিকপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ক্ষতিপূরণের মধ্যে চিকিৎসা ব্যয় ১২ হাজার টাকা এবং এক মাসের খরচ বাবদ ১৩ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।









