দেশের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) খাতকে ঘিরে দূর্নীতি ও লুটপাটের বিতর্ক থামছেই না। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত একাধিক নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর জেলে গেলেও বিটিআরসির এ খাতটিতে সালমান এফ রহমানেরই অনেকটা একক আধিপত্যের বিস্তার রয়েছে এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ও প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি। ফলে বিটিসিএল ও বিটিআরসির বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও অতীতের প্রভাব এখনও পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না-তা নিয়ে বিতর্ক ঘুরে ফিরে সামনে আসছে । বিশেষ করে সালমান এফ রহমানের অনুসারী আইওএফ এর সিইও মুশফিক রহমান, ও মাহতাব হোসেন আইজিডব্লিউ খাতে সালমান এফ রহমানের মতনই নতুন করো লুটপাট করতে বিশেষ কৌশলে বিএনপির বগুড়ার একটি আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো: সিরাজ এর ছেলে আসিফ রাব্বানীকে ঢাল বানিয়েছেন। এবং ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর কয়েক ধাপে বিটিসিএলে আইওএফের মাধ্যমে যেসব দখল, লুটপাট, রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে তাতে বিএনপির এমপিপূত্র রাব্বানীকে সামনে রাখা হলেও পেছনে থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করেন সালমান এফ রহমানের অনুসারী মাহতাব হোসেন এবং মুশফিক মঞ্জুর।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ২৪টি আইজিডব্লিউ লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে এবং বাকি ২১টি ২০১২ সালে লাইসেন্স পায়।
খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী সময়ে সাতটি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আইওএফ (IOF) নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাজার পরিচালনা, নীতিগত সমন্বয় এবং আর্থিক সুবিধা বণ্টনে সালমান এফ রহমান প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক পরোক্ষভাবে সালমান এফ রহমান ই। সালমান এফ রহমানের সিন্ডিকেটের সেই ৭ প্রতিষ্ঠান হলো- গ্লোবাল ভয়েজ, রুটস কমিউনিকেশন লিমিটেড, ইউনিক ইনফো লিমিটেড, বাংলা ট্র্যাক কমিউনিকেশন, ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড, নভোটেল এবং মীর টেলিকম।
আওয়ামী আমলে বিটিসিএলে আইজিডব্লিউ খাতে ব্যাপক লুটপাটের ধারা সরকার পতনের পরও জারী রাখে আইওএফ জোটের সালমান অনুসারী এই ৭ প্রতিষ্ঠান। কারণ এই ৭ প্রতিষ্ঠানেই বসে আছেন সালমান এফ রহমানের অনুসারীরা। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সম্প্রতি টনক নড়েছে সরকারের। গত ২০ জুলাই বিটিআরসি কর্তৃক জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে আইওএফ কে কার্যত সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার ঘোষণা দেয়া হয়।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও সালমান এফ রহমানের প্রভাববলয় পুরোপুরি ভাঙা গেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে বিতর্কিত বলে অভিযুক্ত কাঠামো এখনও কীভাবে সক্রিয় রয়েছে-এবং আইওএফ সিন্ডিকেটের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে এখনও কিভাবে সালমান এফ রহমানের প্রভাবশালী অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন? এসব প্রশ্নের জবাব জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিযোগাযোগ খাত দেশের কৌশলগত অবকাঠামোর অংশ। তাই এই খাতে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এবং তদন্তে সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এখনোও কেনো কোন আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি সেটিই এখন বড় প্রশ্ন?









