চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে একই পরিবারের দুই সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তাঁর ছোট বোন মিমতাহ (১৭), তাঁদের মামা মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. মুন্না।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে মিমতাহর বড় বোনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের পথে রওনা দেন তাঁরা।
রাত ২টার দিকে শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছে মাইক্রোবাসটি ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যান সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দের পর ফেরা পরিবারটির যাত্রা পরিণত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই ফেরদৌস আলম ও মিমতাহ মারা যান।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নিয়াজ মোর্শেদ ও চালক মো. মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনায় আহত সাতজন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।









