পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। আর এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ডানপন্থী রাজনৈতিক জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি ব্রিটেন অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দেশগুলোর বক্তব্য, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে আসছে। তাঁর মতে, শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজন হলে নীতিগত অবস্থানকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
লন্ডনের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর ব্রিটিশ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের সমালোচনাকেও স্বাগত জানান।
এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্যে নেতানিয়াহুর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের বিভিন্ন ডানপন্থী দলকে একই রাজনৈতিক শিবিরে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে বিভাজন থাকায় নির্বাচনের আগে তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোটের সমীকরণ ধরে রাখা। রয়টার্সের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ও সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ পরিবর্তনশীল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের সরকার গঠন নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
ব্রিটেনের সঙ্গে বিরোধটি তাই শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নীতি, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন- এই তিনটি বিষয়ই এখন একই সময়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন। অন্যদিকে ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা দেখাচ্ছে, বসতি নীতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।









