রাজউকের অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যান ও ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী নির্মিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩০ ফুট প্রশস্ত আফতাবনগর–আলিফনগর সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত এই সড়কে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর আবাসন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষের দিকে। তাদের দাবি, কোনো জনশুনানি কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার দৃশ্যমান অনুমতি ছাড়াই সরকারি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত একটি সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন, স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
চার দশকের চলাচলের পথ বন্ধ, বাড়ছে দুর্ভোগ
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আফতাবনগর ও আলিফনগর—উভয় এলাকাই বাড্ডা থানার আওতাভুক্ত। প্রায় চার দশক ধরে হাজারো মানুষ এই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল ও বাজারে যাতায়াত করে আসছেন। কিন্তু সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, সরকারের অনুমোদিত ড্যাপে সড়কটির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের সড়ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া আইন ও জনস্বার্থ—উভয়েরই পরিপন্থী বলে মনে করেন তারা।
মানববন্ধনে সড়ক উন্মুক্তের জোর দাবি
গত ১১ জুলাই আফতাবনগর–আলিফনগর সংযোগ সড়ক উন্মুক্ত করার দাবিতে বাড্ডার আফতাবনগর, আলিফনগর, আনন্দনগর ও ডিআইটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজউকের অনুমোদিত পরিকল্পনায় থাকা একটি সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া নাগরিক অধিকার ও বিদ্যমান নগর পরিকল্পনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জনস্বার্থে সড়কটি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বক্তারা আরও দাবি করেন, ১৯৮২ সালের চলাচল-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করতে পারে না। তাই দেয়াল ও গেট অপসারণ করে সড়কটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বলেন, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজউকের অনুমোদিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নাগরিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় একটি প্রশাসনিক জটিলতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।









