চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাসের হার এর চেয়ে কম ছিল; ওই বছর হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর ২০০৫ সালে তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর ২২ বছরে পাসের হার আর এত নিচে নামেনি।
এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬ জন। ১৯৯০ সাল থেকে ব্যানবেইসের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বোর্ডগুলোতে এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে এবার মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন ফেল করেছেন; গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১। সব বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন, গত বছর যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন এবং ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন। ফলে গত আট বছরের মধ্যে এবারই এ সংখ্যা সর্বনিম্ন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফেল করা শিক্ষার্থীরা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, শুধু সেই বিষয়গুলোতেই তাঁকে পরীক্ষা দিতে হবে।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার









