রবিবার । জুন ২১, ২০২৬

Image Not Found
ব্রেকিং নিউজ
  • Home
  • জাতীয়
  • ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে: প্রধান বিচারপতি

ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে: প্রধান বিচারপতি

Image

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র দৃঢ় হয়, ন্যায় ব্যর্থ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে। আইন কেবল নিয়মের সমষ্টি নয়, এটি জাতির নৈতিক বিবেকের প্রতিফলন। যখন রাষ্ট্র নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাদের কণ্ঠরোধ করে, তখন ন্যায়ের জন্য লড়াই করা নৈতিকভাবে অপরিহার্য।’

শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মানবতা যখন অবিচার ও অমানবিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করে, তখনই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা মানবজাতিকে নতুন নৈতিক চেতনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যখন রাষ্ট্র নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাদের কণ্ঠরোধ করে, তখন ন্যায়ের জন্য লড়াই করা নৈতিকভাবে অপরিহার্য।’

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক আন্দোলনগুলো স্মরণ করিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্য ছিল না; এটি ছিল ন্যায়, মর্যাদা ও অস্তিত্বের অধিকারের সংগ্রাম।
ঠিক একইভাবে ১৯৭১ সালে বাঙালি লড়েছিল মর্যাদা, সমতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে আমরা কেবল পতাকা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য লড়িনি, আমরা লড়েছি ন্যায়ের জন্য।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাস্তবতার আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নৈতিকভাবে সাহসী ও সংবিধানিকভাবে শক্তিশালী বিচার বিভাগ বিনির্মাণ করতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর মূল অংশ হলো একটি পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, যা বিচার প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের অভিগম্যতা নিশ্চিত করবে।
মাত্র দুই দিন পূর্বে, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই অধ্যাদেশ বিগত ১৫ মাসের সুপরিকল্পিত কৌশলগত প্রচেষ্টা ও বহুপক্ষীয় প্রয়াসের ফল। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

প্রধান বিচারপতি অংশীজনদের প্রতি বলেন, ‘সব অংশীজনকে বুঝতে হবে তারা সবাই একটি পারস্পরিক দায়বদ্ধতার (quid pro quo) অংশ।
তাই পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সহযোগিতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতা। কোনো ধরনের অবিশ্বাস বা একতরফা আচরণ গত ১৫ মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা স্বাধীনতা দুর্বল করতে পারে।’
তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী সমাজ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, জেলা আদালতের বিচারকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল অংশীজনকে এই কাঠামোগত রূপান্তর টেকসই করতে আহ্বান জানান।

আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও নবীন আইনস্নাতকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনের অধ্যয়ন কেবল পেশাগত প্রশিক্ষণ নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সাধনা। প্রত্যেক আইনজীবী ও বিচারককে মনে রাখতে হবে প্রত্যেক আইনের পেছনে একটি জীবন, প্রত্যেক রায়ের পেছনে একটি ভাগ্য রয়েছে। ন্যায়ের প্রকৃত মান নিরপেক্ষ ও মানবিক বিচারে নিহিত।’

তিনি আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর বিচারব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা এখনো ঔপনিবেশিক কাঠামোর উত্তরাধিকার বহন করছি। তাই ডেটা-নির্ভর ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সংযোগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে আমাদের বিচারব্যবস্থা সময়োপযোগী হতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি মহোদয় দেশের আইনাঙ্গনের সমৃদ্ধিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য প্রাজ্ঞ আইনবিদ তৈরি করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এখান থেকে ভবিষ্যতেও এমন আইনজ্ঞ তৈরি হবে, যারা কেবল জ্ঞানে নয়, মানবিকতাতেও আলোকিত হবে।’

তিনি ন্যায়বিচারের পুনর্জাগরণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সংবিধানের যে স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার রয়েছে, তা যেন দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় সেটিই আমাদের দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Releated Posts

আরও কমলো স্বর্ণের দাম

আরও কমলো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা…

জুন ২০, ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চতে কাজ করছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চতে কাজ করছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চত করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, সারা দেশে ৫০…

জুন ২০, ২০২৬
১০ জনের দল নিয়েও তুরস্ককে হারালো প্যারাগুয়ে

১০ জনের দল নিয়েও তুরস্ককে হারালো প্যারাগুয়ে

চলমান বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় তুরস্ক-প্যারাগুয়ে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে, আর সেই…

জুন ২০, ২০২৬
কাতারের দেওয়া উপহার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ সংস্করণ বিমান উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

কাতারের দেওয়া উপহার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ সংস্করণ বিমান উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন সংস্করণ বিমান উন্মোচন করেন। তিনি…

জুন ২০, ২০২৬
ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর, এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা…

জুন ২০, ২০২৬
হাইতিকে বিদায় করে ব্রাজিলের প্রথম জয়

হাইতিকে বিদায় করে ব্রাজিলের প্রথম জয়

 ম্যাথেউস কুনহার জোড়া গোলে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে নতুন গতি দিয়েছে। একইসাথে শেষ ৩২’পর্বে…

জুন ২০, ২০২৬
দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে

দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে

✒️একেএম রাশেদ শাহরিয়ার  দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬…

জুন ২০, ২০২৬
জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোর

বাংলাদেশ জাতিসংঘে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন।…

জুন ২০, ২০২৬
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, কৃষি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, কৃষি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান…

জুন ২০, ২০২৬