মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির জ্বালানি দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানায়।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন জ্বালানি দপ্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের উদ্বেগের জবাবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও একমত হয়। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে—
- নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ বৃদ্ধি
- জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়
বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিকল্প জ্বালানি উৎস, আমদানি বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।









