কয়েক সপ্তাহের নিম্নমুখী প্রবণতার পর দেশের পুঁজিবাজারে আবারও প্রাণ ফিরেছে ব্যাংক খাতের শেয়ারে। বিদায়ী সপ্তাহে এই খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সে ভর করে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনেও দেখা গেছে সামান্য ঊর্ধ্বগতি।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইএক্স সূচক ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে।
একই সময়ে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬৬৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং তাওফিকা ফুডস ও লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। তবে সপ্তাহের চতুর্থ দিনে যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। যদিও শেষ কার্যদিবসে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় সূচক কিছুটা কমেছে, তবুও ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ ঘোষণাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রবণতা বাজারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত, যার দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১৫.৮ শতাংশ। এরপর প্রকৌশল (১৪.২%), ব্যাংক (৯.৩%), বস্ত্র (৯%) এবং সাধারণ বীমা খাত (৮.৮%) উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল।
রিটার্নের দিক থেকে চামড়া খাতে সর্বোচ্চ ২.৪ শতাংশ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এছাড়া ব্যাংক ও কাগজ খাতে ১.৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১.৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ১.৩ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২.৯ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ২.৮ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১.৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ২৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ১৮৮ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সেখানে লেনদেন হওয়া ২৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির।









