প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ সাজেক ভ্যালিতে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং কটেজ এন্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পর্যটন উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন এতে অংশগ্রহণ করেন।
দিনের শুরুতে রাঙামাটি থেকে সাজেক পর্যন্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা শেষে সাজেক এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতি তুলে ধরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ট্র্যাডিশনাল ফুড কোর্ট উদ্বোধন এবং ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি কটেজ এন্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব দীপন তালুকদার দীপু, চেয়ারম্যান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লে. কর্নেল মোঃ তারেকুল ইমরান, পিএসসি, জোন কমান্ডার, বাঘাইহাট জোন ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক কটেজ এন্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক এবং জনাব এড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক, রাঙামাটি জেলা বিএনপি ও সম্মানিত সদস্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এছাড়া জনাব শাশ্বত চাকমা, পযটন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব সুপর্ণ দেব বর্মন, সম্মানিত সদস্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সভাপতি, কটেজ এন্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক।
বিকেলে সাজেক হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণে স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কালচারাল এক্সচেঞ্জ ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে আমন্ত্রিত মনিপুরী শিল্পীদের বিশেষ নৃত্য ও মৃদঙ্গ পরিবেশনও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, পর্যটন ভ্লগার, ইনফ্লুয়েন্সার ও পর্যটকরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সাজেকের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এ আয়োজন সাজেকের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ।









