✒️মোশতাক আহমদ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন থেকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে ই-রিকশার নিবন্ধন, রুট ও জোন নির্ধারণ, চলাচলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও কারিগরি মান নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো। নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট রং ও রুটে চলাচল, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যাত্রী পরিবহনের সীমা, ব্যাটারি চার্জিং ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের আওতাধীন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা পৃথক জোনভিত্তিকভাবে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা কত হবে, তা আর চালক বা মালিকদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ শহীদুল হাসান বাসসকে বলেন, ‘ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতেই নতুন বিধিমালা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, দেশের সব সিটি করপোরেশনে একই নীতিমালার ভিত্তিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পর্যায়ক্রমে সব সিটি করপোরেশনকে এ বিধিমালা বাস্তবায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার রসিদ ও নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা করবে।
সব শর্ত পূরণ হলে, আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন।
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই মালিকের নামে অতিরিক্ত সংখ্যক ই-রিকশা নিবন্ধন এবং এক এলাকার যানবাহন অন্য এলাকায় নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকবে।
বিধিমালার তফসিল অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা। নিবন্ধন ও নবায়ন থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।
নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। চালককে বিনামূল্যে এই নম্বর প্লেট এবং যানবাহনের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করা হবে। ব্লু-বুকে সংশ্লিষ্ট চার্জিং স্টেশন বা চার্জিং গ্যারেজের তথ্যও উল্লেখ থাকবে।
ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ সহজেই নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করতে পারে।
ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে তা নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে নকশা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধনের মাধ্যমে নতুন মানদণ্ডের উপযোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব যানবাহনকে বিমার আওতায় আনার বিধানও রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বাসসকে বলেন, ‘নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নিবন্ধন এবং জোনভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণ করা হবে। নিবন্ধিত যানবাহন সহজে শনাক্ত করতে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও নির্দিষ্ট রংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।’
গতিসীমা নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে
বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।
স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।
নতুন বিধিমালায় জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) প্রধান সড়ক বা করিডোরে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রশাসন সময় সময় যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব সড়কেও এসব যান চলতে পারবে না। ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো যাবে না।
চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং ও অনিয়ম করে লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
ই-রিকশার চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত করতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট ও জোন নির্ধারণ করবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট জোনে চলাচলকারী ই-রিকশার সংখ্যা, নির্দিষ্ট রুট ও যানবাহনের রং চূড়ান্ত করা হবে।
এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। ফলে একই এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানো ও সড়কে যান চলাচল ব্যবস্থাপনা সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নতুন বিধিমালায়। ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও ই-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা যাবে। এর মাধ্যমে চালকদের সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান (চলতি দায়িত্বে) বাসসকে বলেন, ‘রাজধানীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ই-রিকশার নিবন্ধন ও রুট নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রধান সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজটের চাপ কমানো সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি নিবন্ধনবিহীন ও নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাটারি চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়মের আওতায় আনতে প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বেসরকারি উদ্যোগ অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো ব্যবস্থায় চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার সুযোগ থাকবে।
চার্জিং স্টেশন স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে কিংবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলতে পারবে না। ব্যাটারি পোড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো একটি ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজে নিয়োজিত হতে পারবে না।
ই-রিকশা উৎপাদন ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্যও বিধিমালায় একটি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বুয়েট বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা থাকবেন।
কমিটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য ও অনুমোদিত নকশা যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন লাইসেন্স দেবে।
বিধিমালা অমান্য করে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য ও দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অবৈধ ই-রিকশার চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের বিধিমালার অধীনে সম্পন্ন কাজ, গৃহীত ব্যবস্থা ও অনিষ্পন্ন কার্যধারা নতুন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিষ্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো বাস্তবায়িত হলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের সংখ্যা ও রুট নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি নিরাপত্তা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা চলাচল, একই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলভাবে রিকশা চলাচলের সমস্যা মোকাবিলায় এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুত্রঃ বাসস









