যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ রাখবে কিয়েভ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণের শর্ত হিসেবে এ প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে, আমাদের মানুষ হত্যা করলে এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানলে আমরা তো আর নীরব থাকতে পারি না।’
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ট্রে ইয়ংস্টের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা বলেছি, আপনারা যদি চান আমরা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা না করি, তাহলে রাশিয়াকেও আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে আমাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিন। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমরা নিজেরাই জোগাড় করব, শুধু সহায়তার ওপর নির্ভর করব না।’
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে একই সময়ের জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে তার দেশ।
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনের হাতে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি হলো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি বা তাকে কোনো বিষয়ে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এ নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই।
তিনি বলেন, ‘অংশীদারদের সঙ্গে সত্য কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’
গত শুক্রবার ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানায়। তবে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে আসছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার জন্য তাদের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।
এর আগে গত সপ্তাহে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের মজুত থেকে ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। পরে শুক্রবার অনুমোদিত নতুন ক্রয়ের মাধ্যমে মিত্রদের সেই মজুত পুনরায় পূরণ করা যাবে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিটির অবসান ঘটেছে রোববার। তবে এ যুদ্ধবিরতি কেবল পূর্বাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে কার্যকর ছিল। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি মাসেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা।









