বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অগ্রগতি, তুরস্ক থেকে পর্যটক আকর্ষণ এবং দেশের পর্যটন শিল্পে তুর্কি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন তুরস্কের কোনিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ডেনিজ বুলকুর।
রবিবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে পর্যটন খাতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা এবং দেশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষ।
তুরস্কের কোনিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ডেনিজ বুলকুর বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি তুরস্কের পর্যটকদের বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় গন্তব্য তুরস্কের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পর্যটন অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের নির্দেশক্রমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটনমন্ত্রী এবং সচিবের পরামর্শ ও নির্দেশনায় দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে।
বিটিবি সিইও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্যটন সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় পর্যটন খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তুরস্কের পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা এবং পর্যটন শিল্পে তুর্কি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুই পক্ষ।









